‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- দেশের নয়টি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত অবসায়নের বাইরে রেখে আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যেসব নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে যাচ্ছে সেগুলো হলো ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে জানতে চাওয়া হয় কেন তাদের বিরুদ্ধে অবসায়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং লুটপাটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ আছে কি না, তা যাচাই করতে গত সপ্তাহে শুনানি শুরু হয়। এই শুনানি গত রবিবার শেষ হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শুনানিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে। এসব যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে শেষ সুযোগ হিসেবে আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলেই নন ব্যাংক আর্থিক খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিসহ চারটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, অবসায়নের পথে থাকা নয়টি রুগ্ণ নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই, তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের অবস্থা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক। এর ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো ধরনের সুদ প্রদান করা হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au