আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। একের পর এক জ্যেষ্ঠ জেনারেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি চীনের সামরিক নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও অস্বচ্ছ করে তুলেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো, কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং ইউশিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু। ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগে গত শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তদন্তের কথা জানায়। ঝাং ইউশিয়া ছিলেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সিএমসিতে তাঁর পরেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
চীন-বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সি চিন পিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পার্টির প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতাও কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক জোনাথন জিন বলেন, ‘ঝাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত দেখিয়ে দিয়েছে, নেতৃত্ব পর্যায়ে এখন কেউই পুরোপুরি নিরাপদ নন।’
সি চিন পিং ও ঝাং ইউশিয়া দুজনই ‘প্রিন্সলিং’, অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। ঝাংয়ের অবসর নেওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে। কিন্তু সি চিন পিং তাঁকে তৃতীয় মেয়াদে সিএমসিতে রাখেন, যা তাঁদের ঘনিষ্ঠতারই ইঙ্গিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তকে অনেকেই বিস্ময়কর বলে মনে করছেন।
এর আগে চীনের সেনাবাহিনীর অভিজাত রকেট ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমনকি গত কয়েক বছরে দুইজন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগ বাস্তব হলেও, চীনের রাজনীতিতে এগুলো অনেক সময় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সাত সদস্যের মধ্যে তদন্ত ও পদচ্যুতির কারণে কার্যত দুজন সক্রিয় রয়েছেন, যাঁদের একজন সি চিন পিং নিজে। এ অবস্থায় নির্দেশনা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জোনাথন জিন বলেন, শূন্য পদগুলোতে বসার মতো অনেক সম্ভাব্য কর্মকর্তাই দুর্নীতির অভিযোগে বাদ পড়েছেন, ফলে সামরিক বাহিনীর দৈনন্দিন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়।
চীনের সামরিক মুখপত্র পিএলএ ডেইলি এই তদন্তকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ‘চেয়ারম্যান দায়িত্বশীলতা ব্যবস্থা’ গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় সি চিন পিং সিএমসির চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। এশিয়া সোসাইটির গবেষক নীল টমাসের মতে, সি চিন পিংয়ের আগে কোনো চীনা নেতা সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে এভাবে একযোগে ভেঙে দেননি।
তবে এই টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সহসা বড় কোনো সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা আপাতত কম। বরং সি চিন পিং এই সময়টা সামরিক নেতৃত্ব পুনর্গঠন ও নিজের কর্তৃত্ব আরও সুসংহত করতে ব্যবহার করবেন। নীল টমাস বলেন, ‘এই অভিযান দেখায়, সি এখন ঘর গোছানোর দিকেই বেশি মনোযোগী। ভবিষ্যতের জন্য আরও অনুগত ও নিয়ন্ত্রিত নেতৃত্ব গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।’
চীন দীর্ঘদিন সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়া ও আক্রমণাত্মক অবস্থান দেশটির কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান শূন্যতা ও পুনর্গঠনের সময় শেষ হলে চীনের সেনাবাহিনী আরও সংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে অনুগত রূপে সামনে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au