চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্য’ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ এমন অবস্থায় বাস করছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে। দারিদ্র্যের এই গভীর সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিশুদের ওপর। পাশাপাশি বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্য’ বলতে এমন অবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে বাবা-মা ও তাদের দুই সন্তান নিয়ে গঠিত কোনো পরিবারের মোট আয় দেশটির গড় আয়ের ৪০ শতাংশের কম। বাড়িভাড়া বা গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধের পর যদি পরিবারের হাতে বছরে ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডেরও কম থাকে, তবে তাদের ‘অতিদরিদ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
দারিদ্র্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা সংস্থা জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও ‘অতিদারিদ্র্য’ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯৯৪–৯৫ সালে দেশটিতে মোট দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৩–২৪ সালে তা কমে ২১ শতাংশে নেমে এলেও, একই সময়ে অতিদারিদ্র মানুষের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনটি শিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় বছরের মতো শিশু-দারিদ্র্যের হার বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে পড়ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর, যা ভবিষ্যতে সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে।
এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার শিশু-দারিদ্র্য কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। গত নভেম্বরে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস ঘোষণা দেন, সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর দীর্ঘদিনের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। ২০১৭ সালে প্রণীত এক নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের কোনো পরিবারে তৃতীয় বা তার বেশি সন্তান থাকলে তারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতো। স্টারমার সরকার সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
তবে জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে বলেছে, শুধু এই একটি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সংস্থাটির মতে, শিশু-দারিদ্র্য দূর করতে হলে আরও বিস্তৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধীদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেশি থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি সংস্থা বিগ ইস্যুর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই পরিস্থিতিকে সমাজের জন্য একটি ‘দুঃসংবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, অতিদারিদ্র্যের এই প্রবণতা কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি যুক্তরাজ্যের সামাজিক কাঠামোর জন্যও গভীর সতর্কবার্তা বহন করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au