আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অজিত পাওয়ারের নাম উচ্চারিত হলেই প্রথমেই আসে বারামতির কথা। এই বারামতিই তাঁকে বারবার জয়ের স্বাদ দিয়েছে, দিয়েছে রাজনৈতিক শক্ত ভিত। অথচ সেই বারামতিতেই এসে থামল তাঁর জীবনের পথচলা। যেখানে রাজনৈতিক জীবনের শুরু, সেখানেই ঘটল করুণ পরিসমাপ্তি।
বারামতি কখনও অজিত পাওয়ারকে খালি হাতে ফেরায়নি। এই আসন থেকে তিনি টানা সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরও আগে, ১৯৯১ সালে এখান থেকেই প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। পওয়ার পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বারামতি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকাতেই এনসিপির অজিত পাওয়ার শিবির প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ঠিক সেই সময়েই বারামতির আকাশে নেমে আসে অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান দুর্ঘটনা, যা তাঁর জীবনের ইতি টানে।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। ‘দাদা’ নামে পরিচিত এই নেতা প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরব সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তাঁর এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।
অজিত পাওয়ার বিশ্বাস করতেন ‘শিব-শাহু-ফুলে-আম্বেদকর’ আদর্শে। অর্থাৎ ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, রাজর্ষি শাহু মহারাজ, জ্যোতিরাও ফুলে এবং ড. বি আর আম্বেদকরের চিন্তাধারাকে সামনে রেখেই তিনি রাজনীতি করেছেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে, ১৯৮২ সালে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। সেই সময় তাঁর সামনে ছিলেন কাকা শরদ পাওয়ার, যিনি তখনই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে ফেলেছিলেন।
শুরুতে চিনি কারখানার সমবায় বোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন অজিত। প্রায় এক দশক পর ১৯৯১ সালে তিনি পুণে জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। একই বছর বারামতি থেকেই প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ধাপে ধাপে বারামতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে তাঁর রাজনৈতিক শক্তি।
তবে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রায় তিন বছর আগে শরদ পাওয়ারের থেকে আলাদা হয়ে নিজের দল গড়েন অজিত। আইনি লড়াইয়ে জিতে এনসিপির ঘড়ি প্রতীকও তাঁর দখলে আসে। যদিও লোকসভা নির্বাচনে শরদ পাওয়ারের দল ভালো ফল করে। পরে বিধানসভা নির্বাচনে অজিত পাওয়ারের শিবির ৪১টি আসনে জয় পেলেও শরদের দল পায় মাত্র ১০টি আসন।
এরপর থেকেই শুরু হয় দুই এনসিপির এক হওয়ার জল্পনা। সাম্প্রতিক পুরসভা নির্বাচনে পুণে ও পিম্পরি-চিঁচওয়াড়ে বিজেপি ও শিবসেনার বিরুদ্ধে দুই এনসিপি শিবির একসঙ্গে লড়াই করায় সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।
বছরের শুরুতে এক সাংবাদিক অজিত পাওয়ারকে প্রশ্ন করেছিলেন, ভবিষ্যতে কি দুই এনসিপি এক হতে চলেছে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আপ কে মু মে ঘি শক্কর।” অর্থাৎ আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক। তখনই রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়, পুনর্মিলনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে অজিত পাওয়ারের আলোচনা চলছিল বলেও শোনা যায়।
রাজনীতি যে খুব কঠিন এক ময়দান, তা অজিত পাওয়ারের জীবনেই বারবার প্রমাণ মিলেছে। এখানে পিতা-পুত্র, কাকা-ভাইপোর সম্পর্কের থেকেও ক্ষমতার লড়াই অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। বিজেপির সঙ্গে জোট তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসালেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন যে সেখান থেকে পূরণ হবে না, তা তিনি হয়তো বুঝতে শুরু করেছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত শরদ পাওয়ারের সঙ্গে ফের হাত মেলানোই তাঁর কাছে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছিল, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
কিন্তু সব জল্পনা, সব সম্ভাবনার অবসান ঘটে বুধবার সকালে। যে বারামতি থেকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান, সেই বারামতির মাটিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কাকার সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকে অপূর্ণ রেখেই থেমে গেল অজিত পাওয়ারের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au