অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি – কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর ও ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ জনমত জরিপে তিনি বিরোধী দলের নেতা সুশান লেইকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি সমর্থন অর্জন করেছেন।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যানসনের পক্ষে সমর্থন দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশ, যেখানে সুশান লেইয়ের সমর্থন ১৬ শতাংশ। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এখনো সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছেন, তাঁর জনপ্রিয়তা ৩৯ শতাংশে রয়েছে, যা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
যদিও সামগ্রিকভাবে লেবার পার্টি এখনো জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, তবে ওয়ান নেশন পার্টির উত্থান অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশন দল লিবারেল ও ন্যাশনাল পার্টির তুলনায় বেশি সমর্থন পাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, জরিপের সময় এই দুই দল কোয়ালিশনে থাকলেও পরে তারা বিভক্ত হয়েছে।
ডেমোসএ ইউ (DemosAU) গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জর্জ হাসানাকোস বলেন, “যদি এখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল এই ধারায় থাকে, তবে লেবার পার্টি সহজেই সরকার গঠন করবে। তবে ওয়ান নেশন সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং সরকারি বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে ওয়ান নেশন লেবার পার্টিকে ছাড়িয়ে যায় এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে একজন সিনেটরের প্রধানমন্ত্রী হওয়া অস্বাভাবিক হলেও অসম্ভব নয়। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হন। ইতিহাসে এর একমাত্র নজির রয়েছে ১৯৬৮ সালে, যখন প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড হোল্টের আকস্মিক নিখোঁজ ও মৃত্যুর পর ভিক্টোরিয়ার সিনেটর জন গর্টন প্রধানমন্ত্রী হন।
১৩ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে ১,৯৩৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক অংশ নেন। জরিপে লেবার পার্টি ৩০ শতাংশ, ওয়ান নেশন ২৪ শতাংশ, তখনকার কোয়ালিশন ২১ শতাংশ, গ্রিনস ১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল ১২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। মাসের শুরুতে পরিচালিত জরিপের তুলনায় লেবার ও ওয়ান নেশনের সমর্থন ১ শতাংশ করে বেড়েছে, আর সাবেক কোয়ালিশনের সমর্থন কমেছে ২ শতাংশ।
সমীক্ষার আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে লেবার পার্টি ৮৭ থেকে ৯৫টি আসন পেতে পারে, ওয়ান নেশন ২৯ থেকে ৩৬টি আসন অর্জন করতে পারে এবং লিবারেল পার্টি মাত্র ৯ থেকে ১৮টি আসন জিততে পারে। হাসানাকোস বলেন, “এই পূর্বাভাস স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনীতি বর্তমানে বিভক্ত, যা লেবার পার্টির আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে ওয়ান নেশন সাবেক কোয়ালিশন দলগুলোর আসন দখল করে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।”
এদিকে ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তিনি সুশান লেইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না এবং তাঁর দল নির্বাচনের পর আবারও কোয়ালিশন থেকে আলাদা হবে। তবে উভয় দলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ওয়ান নেশনের উত্থান ভবিষ্যতে পুনরায় ঐক্যের সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
কুইন্সল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্টির এমপি কলিন বয়েস ৭নিউজকে বলেন, “বিভক্ত থাকা তাদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য আত্মঘাতী হবে।” তবে এখনো লিটলপ্রাউড বা লেই কেউই তাদের নতুন ফ্রন্ট বেঞ্চ ঘোষণা করেননি, যা রক্ষণশীল রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সূত্রঃ সেভেন নিউজ