আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্রতারণা চক্র পরিচালনার অভিযোগে কুখ্যাত ‘মিং পরিবার’-এর ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই চক্রের কর্মকাণ্ডে এক হাজার কোটি ইউয়ানেরও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণা ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনের আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মিং পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ আটক, জুয়া পরিচালনা এবং মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাচার করে আনা শ্রমিকদের জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা হতো। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও সহিংসতা চালানো হতো বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৩ সালে মিয়ানমার থেকে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। মিয়ানমারের শান প্রদেশে সংঘর্ষের সময় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত শহর লাউক্কাইংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। একসময় লাউক্কাইং অঞ্চলটি অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে অন্যান্য অপরাধী নেটওয়ার্কের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে বেইজিং। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে বাই, ওয়েই ও লিউ পরিবারের নামও উঠে এসেছে। এসব পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন স্ক্যাম পরিচালনার জন্য কয়েক লাখ মানুষকে পাচার করা হয়েছে। এসব প্রতারণা চক্রে চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য এবং প্রতিবছর এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূন্য দশকের শুরুতে মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী লাউক্কাইং অঞ্চলে মিং পরিবারের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। তারা ধীরে ধীরে এলাকাটিকে ক্যাসিনো, যৌনপল্লি ও অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রের হাবে পরিণত করে। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের বর্ণনায় জানা যায়, সেখানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আটকে রেখে নিয়মিত মারধর, নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। চীনের আদালতের এই রায় ও দণ্ড কার্যকর সেই দীর্ঘদিনের অপরাধ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au