চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩১ জানুয়ারি- চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি হিন্দুপাড়ায় একের পর এক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় গত এক সপ্তাহে মন্দির, বসতঘর ও খড়ের গাদাসহ অন্তত সাতটি স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়া হলে ঘরের একাংশ পুড়ে যায়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ঘটনার পর থেকে পাড়ার মানুষজন রাতে ঘুম না করে পাহারা দিচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। তবু অগ্নিসংযোগের ঘটনা থামছে না বলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথম অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। তপন ধরের বাড়ির ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা শুকনো পাতার বস্তায় আগুন ধরানো হয়। এতে মন্দিরের ভেতরের সোলার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। পরদিন ভোরে প্রয়াত অমিও ধরের বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি সকালে কানু নাথের খড়ের গাদায় এবং সন্ধ্যায় অমিও ধরের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন লাগানো হয়। একই দিন রতন ধরের রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
২৬ জানুয়ারি অশোক ধরের বাড়িতে শুকনো পাতার বস্তায় আগুন ধরানো হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুপ ধরের বসতঘরের পাশে প্লাস্টিক ব্যবহার করে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মৃদুলের বাড়িতে আগুন দেওয়ায় ঘরের আলনা, কাপড়সহ একাংশ পুড়ে যায়।
মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা বলেন, দুপুরের দিকে তিনি ঘরে একা ছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভান। ওই সময় ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।
এলাকার বাসিন্দাদের ধারণা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রামের রাউজানেও টানা কয়েক সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপাশ চৌধুরী জানান, সবগুলো ঘটনা সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঘটেছে। দিনের বেলায় মানুষ কাজে ব্যস্ত থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে। তাই গ্রামে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au