মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৩১ জানুয়ারি- টানা কয়েক সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ করেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্ববাজারের স্বর্ণ। একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে এমন দ্রুত পতন বাজারে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময় ৩০ জানুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এরও আগে বৃহস্পতিবার সকালে দাম বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাত্র দুই দিনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এত অল্প সময়ে এমন বড় দরপতন বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে ওই উচ্চ দামের সুযোগে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত লাভ তুলে নেওয়া শুরু করেন। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে দরপতন আরও তীব্র হয়।
বিশ্ববাজারের এই ধসের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণবাজারেও। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে।
শনিবার ৩১ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, নতুন নির্ধারিত দাম শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের কমতি দেখা গেছে। নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে এক দফায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। তখন ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এক দফায় এত বেশি পরিমাণে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর নজির আগে কখনো দেখা যায়নি।
টানা সেই ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ এই বড় দরপতন স্বর্ণবাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা এখন বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলার বাজারের গতিবিধির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au