মেলবোর্ন,২ ফেব্রুয়ারি- ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয়, মত প্রকাশ, ব্যবসা ও পেশাগত যোগাযোগের বড় একটি অংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর। এই তালিকায় দ্রুত গুরুত্ব বাড়ছে এক্স, যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মকে অনেক ব্যবহারকারী ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের তুলনায় তুলনামূলক নিরাপদ মনে করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এক্সও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তারকা, রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। যাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আয়, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তাদের জন্য অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক্সের সার্ভারের দুর্বলতার কারণে নয়, বরং ব্যবহারকারীর অসচেতনতার সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। ফিশিং লিংক, দুর্বল পাসওয়ার্ড এবং ভুয়া ই-মেইল বা ডাইরেক্ট মেসেজই হ্যাকিংয়ের প্রধান হাতিয়ার।
হ্যাক হওয়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে একই পাসওয়ার্ড একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ রাখা, অচেনা লিংকে ক্লিক করা, সন্দেহজনক থার্ড-পার্টি অ্যাপকে অ্যাক্সেস দেওয়া এবং পাবলিক বা অনিরাপদ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা।
অনেক সময় ব্যবহারকারী প্রথমে বুঝতেই পারেন না যে তার অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ ঢুকেছে। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে নিজের অজান্তে অচেনা পোস্ট প্রকাশ হওয়া, অন্যদের কাছে অদ্ভুত ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানো, অনুমতি ছাড়া কাউকে ফলো বা আনফলো করা, এক্স থেকে নিরাপত্তা সতর্কবার্তা আসা কিংবা হঠাৎ পাসওয়ার্ড কাজ না করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবের যেকোনো একটি ঘটলেও ধরে নিতে হবে অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সময় পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ই-মেইল ও ফোন নম্বর সচল থাকলে সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে হ্যাকার যদি ই-মেইল, পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তন করে ফেলে, তাহলে সময় লাগতে পারে তিন থেকে সাত দিন বা তারও বেশি। সাপোর্ট টিমের সাড়া ধীর হলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
ঝুঁকির আভাস পেলেই দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। লগইন সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, সংযুক্ত ই-মেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করা এবং এক্সের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট রিকভারি ফর্ম পূরণ করা জরুরি। পাশাপাশি সন্দেহজনক পোস্ট বা বার্তা ছড়িয়ে পড়লে ফলোয়ারদের সতর্ক করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অভ্যাস বদলালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। শক্তিশালী ও দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি নিয়মিত থার্ড-পার্টি অ্যাপের অ্যাক্সেস পরীক্ষা করা, অচেনা অ্যাপের অনুমতি বাতিল করা, ডিভাইস ও ব্রাউজার আপডেট রাখা এবং পাবলিক কম্পিউটার বা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ে লগইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিটাল উপস্থিতি যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ঝুঁকি। তাই অচেনা কোনো পোস্ট দেখলে বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে আপনার এক্স অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।