সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- কুড়িগ্রামের উলিপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পরিবারের ১শ ৩৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ভারতপাড়া এলাকায়। জমির মালিক পরিবার উলিপুর থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হোকডাঙা ভারতপাড়া এলাকার মোনমহন রায় (৬৫) ও তার পরিবার ক্রয় ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১শ ৩৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছিল। গত ২৫ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশি খাইজর আলী (৫৫) ও আবু কালাম (৪৫) ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন।
জমির মালিক মোনমহন রায় অভিযোগ করেন, “আমরা বাঁধা দিতে গেলে খাইজর আলী ও তার দল ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেন। এতে আমাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।” তিনি জানান, জমির ২৯ শতক অংশ বর্গা দিতে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, খাইজর আলী ও আবু কালাম পরে স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে জমিটি বন্দক বাবদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন।
ভুক্তভোগী মোনমহন রায় আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের নামীয় জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিবেশিরা আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।”
থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জোরপূর্বক জমি দখল করা সম্পূর্ণ অন্যায়। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এর সুষ্ঠ সমাধান সম্ভব নয়।”
পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।” উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক জানান, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। তবে পরিবার থানায় এলে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
অভিযুক্ত খাইজর আলী ১শ ৩৫ শতক জমি দখল করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা হয়রানির কারণে জমি দখল করেছি।”
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং তাদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জমি ব্যবহার করে আসছে, কিন্তু হঠাৎ করেই জোরপূর্বক জমি দখল করা হলে তারা আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দখলকৃত জমি তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au