আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- প্রায় ১২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ধামরাইয়ের গৃহবধূ তপসা বিশ্বাস। সোমবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি ফিরে পান তার দেড় বছরের ছেলে প্রণয় বিশ্বাসকে। দীর্ঘদিন মায়ের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর বিকেলে মাকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হয় শিশুটির।
পরিবার সূত্র জানায়, রোববার তপসার জামিন মঞ্জুর হওয়ার আদেশ দেন আদালত। পরদিন সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তপসার মুক্তির খবরে স্বস্তি ফিরে আসে তার পরিবারে।
প্রণয়ের ফুফাতো ভাই শেখর মণ্ডল জানান, রোববার তারা ভেবেছিলেন জামিন শুনানি হবে না। আইনজীবীর কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে সবাই হতাশ হয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন। কিন্তু পথিমধ্যে আইনজীবী ফোন করে জানান, তপসার জামিন হয়ে গেছে। সোমবার বিকেলে কারামুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ১২ দিন পর প্রণয় তার মাকে কাছে পায়। শেখর মণ্ডল বলেন, মাকে ছাড়া প্রণয় খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ঠিকমতো খেত না, ঘুমাত না। ঠান্ডাও লেগেছিল তার।
ঘটনার সূত্রপাত গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার একটি চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ধরতে গত ২৩ জানুয়ারি ধামরাই থানা এলাকার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বেরশ গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন তপসা বিশ্বাস। অন্য আসামিরা হলেন কিরণ মালা, বাদল চন্দ্র সরকার ও দুলাল চন্দ্র সরকার।
পরদিন ২৪ জানুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ দুই নারী আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দুই আসামিকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মায়ের মুক্তির আশায় সেই সময় থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে দিন কাটাতে থাকে ছোট্ট প্রণয়। খালা সরলা বিশ্বাসের সঙ্গে সে আদালতে আসে, আবার সন্ধ্যায় ফিরে যায়। পরবর্তী দিনগুলোতেও একাধিকবার তপসার জামিনের আশায় আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা যায় সরলা ও প্রণয়কে। এই মানবিক অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়। সে সময় সরলা বিশ্বাস বলেছিলেন, প্রণয় মায়ের জন্য সারাক্ষণ কান্না করে, কিছু খায় না, ঘুমায় না। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোববার তপসার জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রথমে আইনজীবীর কাছ থেকে জানানো হয় শুনানি হবে না। এতে আত্মীয়স্বজন নিয়ে হতাশ হয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন তারা। তবে পরে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটির আদালতে তপসা বিশ্বাস ও কিরণ মালার পক্ষে আইনজীবী ইরশাদুল হক জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনজীবী ইরশাদুল হক জানান, রোববার জামিন আদেশ দেওয়া হয় এবং সোমবার তারা কারামুক্ত হয়েছেন।
মামলার বাদী ধামরাই থানার এসআই সুবোধ চন্দ্র বর্মন বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চুরির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল আক্তার নামে এক আসামির অবস্থানের খবর পেয়ে তারা ওই বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে গেলে বাড়ির লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। সেদিন সরস্বতী পূজা থাকায় বাড়িতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ওই বাড়ির মালিক হরিলাল বিশ্বাস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ভেবেছিলেন পুলিশ তাকে ধরতে এসেছে এবং তার নেতৃত্বেই হামলা হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তপসা বিশ্বাস ও তার ছেলে সৌরভ বিশ্বাস হামলায় সক্রিয় ছিলেন।
এ মামলায় তপসা বিশ্বাসের স্বামী হরিলাল বিশ্বাস এবং ছেলে সৌরভ বিশ্বাসও আসামি। তবে অভিযানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাবুল আক্তারকে ওই বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au