চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা। দায়িত্ব শেষে বিদেশ ভ্রমণে যাতে কোনো ধরনের আইনি, প্রশাসনিক বা ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ বা প্রাইভেট পাসপোর্টের জন্য আবেদন সম্পন্ন করেছেন।
যাদের নাম জানা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুধু উপদেষ্টারাই নন, সরকারের কয়েকজন পূর্ণাঙ্গ সচিব এবং হাইকোর্ট বিভাগের কয়েকজন বিচারকও তাদের লাল পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন। তারা সবাই দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পদত্যাগ করলে বা দায়িত্ব পালন শেষ হলে এই পাসপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কবে নাগাদ পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। এই ফাঁকটুকু থেকেই মূলত জটিলতা তৈরি হয়।
সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলে দ্রুত তা পাওয়া যায়। কিন্তু দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলে সেই নিশ্চয়তা আর থাকে না। তখন পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হতে পারে, আবার বিদেশ ভ্রমণের সময় ইমিগ্রেশনে অনাপত্তি সনদ চাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই অনেকে আগেভাগে লাল পাসপোর্ট ছাড়ছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের পর উপদেষ্টারা যখন আর দায়িত্বে থাকবেন না, তখন সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ যেতে হলে ইমিগ্রেশনে এনওসি লাগতে পারে। এনওসি না থাকলে কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভ্রমণ সম্ভব নাও হতে পারে। দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই কারও কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার দরকার হতে পারে। যারা এমন সম্ভাবনা দেখছেন, তারাই মূলত আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
এদিকে, নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তিনি বা তার স্ত্রী কেউই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি এবং তার পাসপোর্ট এখনও বহাল রয়েছে। তার ভাষায়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দেওয়া অস্বাভাবিক।
তবে অন্য উপদেষ্টাদের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে এমন বিবেচনা থেকেই কেউ কেউ আগেভাগে আবেদন করছেন। এতে সময় বাঁচে এবং নতুন পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরোনো পাসপোর্ট বাতিল হলেও অনেক দেশের ভিসা বহাল থাকে, তবে ভ্রমণের সময় নতুন পাসপোর্ট থাকা জরুরি।
উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট চালুর পর বাংলাদেশে কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই পাসপোর্টের বৈধতা মূলত দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দায়িত্ব শেষ হলেই নিয়ম অনুযায়ী তা সরকারের কাছে ফেরত দিতে হয়। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তা আগেভাগে তাদের লাল পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au