নির্বাচন কমিশনের ‘ঘূর্ণিঝড়ে’ লন্ডভন্ড মমতার সাজানো প্রশাসন
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রীতিমত যুদ্ধে শামিল ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা হিন্দু দেবদেবীর পাঁচটি ধাতব মূর্তি উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তিন দিন গোপন থাকার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে সোমবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে মূর্তিগুলো উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামের আব্দুল মোজামের পরিত্যক্ত একটি বাঁশবাগানে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। শ্রমিকরা এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে মাটি খনন করার সময় মাটির নিচে একটি পুরোনো পিতলের হাঁড়ির সন্ধান পান। হাঁড়িটি তুলে খুলতেই ভেতরে সোনালি রঙের কয়েকটি ধাতব মূর্তি দেখতে পান তারা। আকস্মিক এই আবিষ্কারে শ্রমিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয় এবং তারা ধারণা করেন, মূর্তিগুলো হয়তো স্বর্ণের তৈরি ও প্রাচীনকালের।
পরে জমির মালিক আব্দুল মোজাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিগুলো দেখে শ্রমিকদের বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেন। হাঁড়িসহ মূর্তিগুলো তিনি বাড়িতে নিয়ে যান। তবে গোপন রাখার চেষ্টা সফল হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। একে একে স্থানীয় লোকজন মূর্তিগুলো দেখতে আব্দুল মোজামের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন। শুধু খোরদ গ্রাম নয়, আশপাশের গ্রাম থেকেও উৎসুক মানুষজন সেখানে জড়ো হতে থাকেন।
এদিকে খবর পেয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি-৬ এর সুবেদার জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গ্রামটির চিনি পাড়ার বিশ্বাস বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরোনো পিতলের কলসের ভেতর থেকে পাঁচটি ধাতব মূর্তি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কলসটির ওজন ছিল ১ কেজি ৯৮২ গ্রাম এবং মূর্তিগুলোর মোট ওজন ১ কেজি ৭৩২ গ্রাম।
উদ্ধারের পর মূর্তিগুলো পরীক্ষা করার জন্য চুয়াডাঙ্গা গোল্ড টেস্টিং অ্যান্ড হলমার্ক সেন্টারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, মূর্তিগুলো স্বর্ণের তৈরি নয়। এতে ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মূর্তিগুলো মূলত তামা দিয়ে তৈরি, যা বাইরে থেকে সোনালি রঙের হওয়ায় প্রথমে স্বর্ণ বলে মনে হয়েছিল।
খোরদ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানান, মোজাম যে জায়গায় মাটি খুঁড়ছিলেন, সেটি খোরদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাঁশবাগান। সেখানে পিতলের হাঁড়িটি পাওয়া যায় এবং হাঁড়ির মুখ লাল রঙের কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে সোমবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশ এসে মূর্তিগুলো উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।
স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তার আগেই বিজিবি ও পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তিনি জানান, প্রথম দেখায় মূর্তিগুলো প্রাচীন স্বর্ণের বলে মনে হয়েছিল। তবে বিজিবি উদ্ধার করার পর জানানো হয়, সেগুলো স্বর্ণের নয়, তামার তৈরি।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ধাতব মূর্তি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তামা রয়েছে এবং এগুলো স্বর্ণের তৈরি নয়। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো বর্তমানে রাজস্ব বিভাগের কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে মূর্তিগুলোর বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা সেগুলো কোন সময়ের হতে পারে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো মানুষের আগ্রহ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au