চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ক্রমশ চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছে। এরপর বিকেলে তাদের পক্ষ থেকে আরও ঘোষণা আসে যে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ৯৮টি। এর মধ্যে অন্তত ৩২টি জাহাজে রয়েছে চাল, ডাল, চিনি, তেল, খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। বাকি জাহাজগুলোতে রয়েছে সার, সিমেন্ট, ক্লিঙ্কার এবং অন্যান্য সাধারণ কার্গো।
অভিযান দমাতে সোমবার হঠাৎ করে ১৫ আন্দোলনকারীকে বদলি করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই বদলির সুপারিশ করেছে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দুইজন বিএনপিপন্থি শ্রমিক নেতাও রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইট সোমবার পোর্ট পারফরম্যান্স আপডেট করেনি। এর আগের দিন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজের মধ্যে কনটেইনারবাহী রয়েছে ১২টি, জেনারেল কার্গো জাহাজ ২৯টি, খাদ্যপণ্য বোঝাই ২২টি, চিনির কাঁচামাল বোঝাই ৫টি, লবণ বোঝাই ২টি এবং তেলের জাহাজ ৯টি।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, রমজানের আগে এমন কর্মবিরতি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, শ্রমিকরা এই ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন। তা না হলে প্রশাসন আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা এক আদেশে, দাপ্তরিক প্রয়োজনে কিছু কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে ঢাকার পানগাঁও টার্মিনাল থেকে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। উভয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতা।
একই আদেশে পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের এস এস খালাসি মো. ফরিদুর রহমান, উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলামকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। মোংলা বন্দরে বদলি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টোনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মেসন শামসু মিয়া। পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে স্টোনো টাইপিস্ট জহিরুল ইসলাম, এস এস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, ইসিএম ড্রাইভার লিয়াকত আলী এবং খালাসি মো. রাব্বানীকে।
এই কর্মসূচি চলতে থাকায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও রফতানি-আমদানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।