ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ। ফাইল ছবি: আনাদোলু এজেন্সির সৌজন্যে
মেলবোর্ন,৪ ফেব্রুয়ারি- ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নয় মস্কো। রাশিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।
মঙ্গলবার মস্কোতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষায়, “এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আমাদের কিছু জানায়নি।”
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়াতে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ভারত যেন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করে। ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ, ভারতের কাছে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারত সে দাবি মানতে নারাজ ছিল।
এই অবস্থায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পাশাপাশি পারস্পরিক শুল্কও ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। ফলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।
দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছেন।
তবে একইদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধু শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করেন। রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৬ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর কয়েক মাসে এই আমদানি কমলেও, বছরের শেষ দিকে আবার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের সময় রাশিয়া নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস দেয় ভারতকে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। এই বাণিজ্যের বড় অংশই জ্বালানি খাতনির্ভর। বিপরীতে রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল পাঁচ বিলিয়ন ডলারেরও কম।