বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে 'দ্য ইকোনমিস্ট'র বিশ্লেষণ

ভোটারদের একদিকে কলঙ্কিত একটি দল, আরেকদিকে তালেবানপন্থী দল

  • 3:05 pm - February 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৮ বার
ইকোনমিস্টের ওয়েবসাইটে গেলে বাংলাদেশ দিয়ে সার্চ করলেই দেখা যাচ্ছে এই নিবন্ধ ও পডকাস্ট।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কঠোর মূল্যায়ন করেছে প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সোমবার প্রকাশিত এক নিবন্ধ ও সংশ্লিষ্ট পডকাস্টে সাময়িকীটি বলেছে, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটাররা কার্যত শাঁখের করাতে পড়েছে। একদিকে রয়েছে অতীতে দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের অভিযোগে কলঙ্কিত একটি দল, অন্যদিকে রয়েছে তালেবান ঘরানার হিসেবে চিহ্নিত একটি ইসলামপন্থী শক্তি। এই দুইয়ের মধ্য থেকেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পছন্দ বেছে নিতে হবে ভোটারদের।

ইকোনমিস্টের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ সার্চ করলেই দেখা যাচ্ছে এই নিবন্ধটি। পাশাপাশি রয়েছে একটি পডকাস্ট, যার শিরোনাম ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পরে কী?’। সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পতনের পর যে গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, দেড় বছর পেরোতেই তার রং অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

নিবন্ধে কলঙ্কিত অতীতের দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিএনপিকে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। আর তালেবান ঘরানার দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে, যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় পার করছে।

প্রতিবেদনটির শুরুতেই তুলে ধরা হয়েছে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের চিত্র। বলা হয়েছে, ময়মনসিংহমুখী বুলেটপ্রুফ বাসে তারেক রহমান যাওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে জড়ো হয়েছিল বিপুলসংখ্যক সমর্থক। এমনকি গার্মেন্ট কারখানা থেকে শ্রমিকদেরও উঁকিঝুঁকি দিতে দেখা গেছে। ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করছেন।

জেন-জি নেতৃত্বাধীন জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর পর নির্বাচন ঘিরে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সেটিও নিবন্ধে উঠে এসেছে। ইকোনমিস্ট লিখেছে, গণতন্ত্রে ফেরার এই প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতে সহায়ক হতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের শাফকাত মুনিরের উদ্ধৃতি দিয়ে সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভোট একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, জীবনের প্রায় ২০ বছর এমনভাবে কেটেছে, যখন ভোটের কোনো মূল্যই ছিল না।

তবে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছে বলেও মন্তব্য করেছে ইকোনমিস্ট। এখানেই সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এই দলটি স্বাধীনতার বিরোধিতার পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনে যুক্ত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

শেখ হাসিনার সরকার ২০২৪ সালে পতনের আগে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় এবং দলটি নতুন করে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ইকোনমিস্টের মতে, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত, তবে এর মধ্যে জামায়াতই সবচেয়ে বড় চমক।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের টমাস কিনের মতে, জামায়াতের নতুন জনসমর্থনের পেছনে শুধু ইসলামপন্থী পরিচয় নয়, আরও নানা কারণ রয়েছে। দলটি দাবি করছে, ক্ষমতায় গেলে তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তবু শহুরে সমাজে আতঙ্ক রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছে ইকোনমিস্ট। বিশেষ করে নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নারীদের গৃহবন্দি করার ইঙ্গিত উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সংসদে অতীতে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন জেতা জামায়াত এবার বড় দল বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। একসময় আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই দুই দল ছিল রাজনৈতিকভাবে কাছাকাছি, এখন সেই সম্পর্ক শিথিল।

জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ইকোনমিস্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, দলটি এর আগে তিনবার ক্ষমতায় গিয়েও প্রশ্নবিদ্ধ শাসনের নজির রেখেছে। বিশেষ করে ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও তারেক রহমান যে কার্যত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন, তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্যের বরাতে তাকে সে সময় বাংলাদেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। লন্ডনে তার অবস্থানকে স্বেচ্ছা নির্বাসন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন ক্ষমতায় গেলে সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। উদারপন্থী অনেকেই তাকে সমর্থন করছেন এই আশায় যে, আগের তারেক রহমান আর বর্তমান তারেক রহমান এক নন।

তবে সব মিলিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের মূল্যায়ন স্পষ্ট। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটারদের সামনে থাকা বিকল্প দুটিই আকর্ষণীয় নয়। একদিকে আধুনিকতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অতীতে কলঙ্কিত একটি রাজনৈতিক শক্তি, অন্যদিকে কট্টরপন্থার আশঙ্কা জাগানো একটি দল। এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, এমনটাই মনে করছে প্রভাবশালী এই সাময়িকী।

এই শাখার আরও খবর

‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের নতুন দফায় ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে নতুন দফা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au