আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর গত দুই মাসে সারা দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদন” শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট ১৬২টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এইচআরএসএস জানায়, এসব ঘটনার মধ্যে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এসব সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে।
একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে এইচআরএসএস গত ১৭ মাসের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক সহিংসতার প্রায় অর্ধেক ঘটনাই ঘটেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে। মোট ৭০৪টি ঘটনা ছিল দলীয় কোন্দলজনিত, যেখানে ১২১ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন। এসব সংঘাতের পেছনে প্রভাব বিস্তারের লড়াই, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ ঘিরে সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে গণপিটুনি ও জনতার হাতে হত্যার ঘটনাকে এইচআরএসএস অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের সময়ে সারা দেশে গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনা। মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে মৃত্যু এবং নির্যাতনের ঘটনাতেও অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানায় এইচআরএসএস। এর মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা সংঘর্ষে ছয়জন, নির্যাতনের ফলে ২২ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ১২ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ১২৭ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার চিত্রও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এইচআরএসএস জানায়, এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৫৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের ছয়টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এইচআরএসএস বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা, গণপিটুনি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই চিত্র দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সামনে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au