চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দর পরিদর্শনে এলে বন্দরের ৪ নম্বর গেটে তার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা ইজারা সিদ্ধান্ত বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন এবং বন্দর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দর সূত্র জানায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। প্রথমে তারা টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে দাবি আদায় না হওয়ায় আন্দোলন আরও কঠোর করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান। এর ফলে বন্দর জেটিতে কনটেইনার ও অন্যান্য মালামাল ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে পণ্য সরবরাহ ও হস্তান্তর এবং জাহাজের আগমন ও বহির্গমন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সকাল থেকে আন্দোলনের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকারীরা বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে ট্রাফিক, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন। এতে বন্দরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে থাকার জন্য বলা হয়েছে।
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিডিডিএলের পক্ষ থেকে একজন বা দুজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে আলোচনায় পাঠাতে হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের আঞ্চলিক কমান্ডার, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার এবং নেভি ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এই অচলাবস্থার প্রভাব জাতীয় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সমাধান না এলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au