ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে সাত দিনের সেন্সর বা আনুষ্ঠানিক ভর্ৎসনা শেষ হওয়ার পর আবার সংসদে ফিরে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাকে সংসদ থেকে বের করে দেওয়া বা চুপ করানোর চেষ্টা করা হলেও তাকে থামানো যাবে না। তাঁর দাবি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষ জানে তিনি তাদের পক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন।
বৃহস্পতিবার সিনেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হ্যানসন বলেন, তিনি ফিরে এসেছেন এবং আগের মতোই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন। তিনি বলেন, সিনেট চাইলে তাকে বাদ দিতে পারে, নীরব করার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার জনগণ জানে তিনি তাদের পাশে আছেন এবং ক্রমেই আরও বেশি মানুষ তার পাশে দাঁড়াচ্ছে।
গত বছরের শেষ দিকে বোরকা পরে সিনেটে হাজির হয়ে মুসলিম নারীদের পোশাক নিষিদ্ধের দাবি তোলায় পলিন হ্যানসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই ঘটনার পর সিনেটে ভোটাভুটিতে ৫৫ জন সিনেটর তার বিপক্ষে এবং মাত্র ৫ জন পক্ষে ভোট দেন। সিদ্ধান্তে বলা হয়, তার ওই আচরণ ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে অপমান ও বিদ্রূপ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং এটি মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের প্রতি অসম্মানজনক।

গত বছরের শেষ দিকে বোরকা পরে সিনেটে হাজির হয়ে মুসলিম নারীদের পোশাক নিষিদ্ধের দাবি তোলায় পলিন হ্যানসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ছবি: সংগৃহীত
এই সেন্সরের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিনি সংসদের কিছু কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি এবং ঘৃণাভাষণ ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত বন্ডি সংস্কার বিষয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগও হারান। তবে সেন্সর শেষ হওয়ার পর তিনি একে অন্যায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি তখন আইন নিয়ে বিতর্ক করতে না পারলেও তার দলের সহকর্মীরা তার পথ অনুসরণ করে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
হ্যানসন দাবি করেন, সরকার বৈধ অস্ত্রধারীদের দায়ী করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থী ইসলামের মতো বিষয় মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং সেখান থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেন্সর শেষে পলিন হ্যানসনের দল ওয়ান নেশন জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। সর্বশেষ জরিপগুলোতে দলটি প্রথমবারের মতো ভেঙে পড়া কোয়ালিশন জোটকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ন্যাশনালস বা লিবারেল পার্টির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে হ্যানসন বলেন, তিনি অভিবাসন নীতি ও নেট জিরো লক্ষ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমান লেবার সরকারের কঠোর সমালোচনা চালিয়ে যাবেন এবং যারা আলবানিজ সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করতে চায়, তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তিনি কখনোই ওই দলগুলোর সঙ্গে একীভূত হবেন না।
একই দিনে স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি মনে প্রাণে একজন রক্ষণশীল রাজনীতিক এবং প্রয়োজনে রক্ষণশীলদের সঙ্গে সরকার পরিচালনায় সহযোগিতা করতে পারেন। তবে বর্তমান বিরোধী রাজনীতিকে তিনি বিশৃঙ্খল বলে মন্তব্য করে বলেন, এই অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
সিনেটে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, তাকে চুপ করানোর চেষ্টা মানে লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের কণ্ঠরোধ করা, যারা দীর্ঘদিন ধরে দুই দলের আরামদায়ক রাজনীতিতে বিরক্ত। তার দাবি, মানুষ তার প্রতি সমর্থন দিচ্ছে কারণ তারা মনে করছে সরকার তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।
হ্যানসন আরও বলেন, তিনি এই সমর্থনকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না এবং ওয়ান নেশন প্রমাণ করবে যে তারা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়ান নেশন কোনো দলীয় ব্যবস্থার অংশ নয় এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখবে।
এদিকে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে হ্যানসন দুইবার দাঁড়িয়ে সরকারের সক্ষমতা বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়েও কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সেন্সর শেষে তার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au