মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন,৭ ফেব্রুয়ারি- জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ এমন এক ভূরাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে একাধিক বৈশ্বিক শক্তির স্বার্থ, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বৈধতা একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, কৌশলগত স্পষ্টতা এবং পররাষ্ট্রনীতিতে পেশাদার স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবির।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রাজনৈতিক টকশো কেমন সংসদ চাই-এ আলোচনায় অংশ নিয়ে কবির বলেন, বাংলাদেশ এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যখন শুধু নির্বাচন নয়, বরং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও পরবর্তী শাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।
এম হুমায়ুন কবির বলেন, আগের নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতি প্রায়ই ভারতপন্থী ও ভারতবিরোধী বিভাজনে আবর্তিত হলেও এবার সেই কাঠামো অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারতের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও এটি আর নির্বাচনী আলোচনার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু নয়।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘসহ একাধিক বৈশ্বিক শক্তি এবার একই সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আগে যেখানে ভারত ছিল প্রধান বাহ্যিক পক্ষ, সেখানে এখন কূটনৈতিক পরিসর অনেক বেশি বিস্তৃত।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারতবিরোধী মনোভাব কিছুটা বেড়েছে স্বীকার করলেও কবির বলেন, এটি আগের মতো সরল বা একমাত্রিক নয়। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এখন চরম অবস্থানের বদলে মধ্যপন্থী কূটনীতি প্রত্যাশা করছে।
তার ভাষায়, নাগরিকরা চায় বাংলাদেশ যেন সব দেশের সঙ্গে মর্যাদা, সমতা ও আত্মসম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখে। কোনো দেশের সঙ্গে অকারণ সংঘাত নয়, আবার কোনো শক্তির পক্ষে দাঁড়িয়ে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
কবির সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন হলেই সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য শাসন না হলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতির স্থিতিশীলতা সরাসরি সরকারের অভ্যন্তরীণ বৈধতার সঙ্গে যুক্ত। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো সরকারই আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় কবির বলেন, ওয়াশিংটনকে ঘিরে নানা ধরনের ধারণা থাকলেও সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান হলো যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত যে কোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি স্পষ্ট করেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ মানেই রাজনৈতিক সমর্থন নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শক্তিগুলো সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ রাখে, যা স্বাভাবিক কূটনৈতিক চর্চা। নির্বাচন প্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্য হলেই তাদের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়।
বাংলাদেশে চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থাকলেও সব বড় শক্তিই চায় বাংলাদেশ স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক থাকুক। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য ও বিনিয়োগে চীনের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি কাঠামোগত বলে বর্ণনা করেন। নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও ভৌগোলিক বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একাধিক বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের করণীয় হিসেবে কবির বলেন, নীতি হওয়া উচিত সবার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, তবে কারও সঙ্গে জোট নয়। তিনি জোর দেন পেশাদার কূটনীতির ওপর, যা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
তার মতে, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সামলায়, বাংলাদেশও চাইলে তা পারবে, তবে তার জন্য আগে নিজস্ব অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় মোড় হিসেবে উল্লেখ করে কবির বলেন, আগের সুবিধাভিত্তিক সম্পর্কের যুগ শেষ হচ্ছে। সামনে সম্পর্ক হবে আরও লেনদেনভিত্তিক, যেখানে প্রতিশ্রুতি ও ছাড়ের প্রশ্ন আসবে।
তিনি সতর্ক করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের পরামর্শ জরুরি, নইলে ভবিষ্যৎ সরকার ও সংসদের ওপর বড় দায় চাপবে
পরবর্তী সংসদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা বলে মন্তব্য করেন এম হুমায়ুন কবির। তার মতে, সংসদ যদি বিরোধ নিষ্পত্তির জায়গা হয়ে না ওঠে এবং রাজনীতি আবার রাজপথে ফিরে যায়, তাহলে বাংলাদেশ নতুন করে সংকটে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ছাড়া গণতন্ত্র যেমন টিকবে না, তেমনি কার্যকর পররাষ্ট্রনীতিও গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au