সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জনকারী শামীম শাহরিয়ারকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। মেধা, যোগ্যতা ও চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরকারের ভূমিকা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শামীম শাহরিয়ার ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ১ হাজার ৭১০টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৬৭৬ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে ফল প্রকাশ করে। কিন্তু সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে মাত্র ১ হাজার ৪৯০ জনের নাম রাখা হয়েছে। এতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১৮৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এই তালিকায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া শামীম শাহরিয়ারও রয়েছেন।
গত ৩০ জুন রাতে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে শামীম শাহরিয়ার পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং এমআরসিপি পার্ট-১ সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাজধানীর সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন এবং পরে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
সমালোচকরা বলছেন, শামীম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা যোগ্যতা সংক্রান্ত প্রশ্ন কখনোই তোলা হয়নি। বরং তিনি চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিলেন। এরপরও তাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, তার ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, যা সংবিধানের সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতির পরিপন্থী। তারা বলছেন, একজন প্রার্থী প্রথম স্থান অর্জন করার পরও যদি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাদ পড়েন, তাহলে বিসিএস পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ প্রার্থীদের আস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং মেধাভিত্তিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে যদি রাষ্ট্রীয় সেবা কাঠামো গড়া হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসন ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au