হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীc, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ৭ ফেব্রুয়ারি- চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া জায়েজ হবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রতি সমর্থন জানান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীরহাট বড় মাদ্রাসায় বোখারি শরিফ খতম উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন হেফাজতের আমির। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে বলতে শোনা যায়, মুসলমানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া হারাম এবং জায়েজ হবে না। তিনি উপস্থিত বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে দেখিয়ে বলেন, তাঁকে সামনে রেখে তারা জেহাদ করছেন। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং মওদুদির জামায়াতের বিরুদ্ধে জিহাদ।
হেফাজতের আমির আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া তিনি বোঝেন না, তবে জামায়াতকে কঠোরভাবে ভোট থেকে বঞ্চিত করা না গেলে দেশ ও ইসলামের ক্ষতি হবে। তিনি জামায়াতকে ইসলামের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম-২ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। এ অভিযোগে গতকাল ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ইসমাঈল গণি বলেন, বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর তাঁর হলফনামায় চার শতাধিক কোটি টাকার ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করেছেন। এ বিষয়ে করা মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
ইসমাঈল গণির দাবি, আদালতের এই আদেশের পর থেকেই বিএনপি প্রার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের প্রত্যাখ্যান করবেন।
ফটিকছড়িতে হেফাজতের আমিরের বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা আরও সংঘাতপূর্ণ রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।