ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে দলটির পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল দিয়েছে, তা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে সরকার গঠন করলে সংসদে বিরোধী দল থাকবে কোথায়, সেটাই বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন, আর সেই জায়গায় বিরোধী দলে বসেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ভূমিকা রাখা উচিত।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে হওয়া অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান। শেখ হাসিনা ছিলেন তাঁর মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা এই ইসলামপন্থী দলটি এখন আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। এবারও জামায়াত একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের যুক্তি, ২০২৪ সালের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতকে স্থিতিশীল করতে একটি যৌথ সরকার প্রয়োজন।
বর্তমানে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওই বছর আন্দোলন দমনে ভূমিকার অভিযোগে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে জোটসঙ্গীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাঁর সহকারীরা দাবি করেছেন, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেতে পারে। তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা না বললেও বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।
জনমত জরিপগুলোতেও বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট, যেখানে তরুণ প্রজন্মের একটি নতুন রাজনৈতিক দলও রয়েছে, তাদের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায় না। তাঁর মতে, দেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, যে দেশ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে সহায়তা করবে, বাংলাদেশের বন্ধুত্ব সেই দেশের সঙ্গেই থাকবে।
শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং দলটির অনেক শীর্ষ নেতা ও পরিবারের সদস্য আগেই দেশ ছাড়েন বা পরে বিদেশে চলে যান।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও তারেক রহমান তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়াই চূড়ান্ত সমাধান, তবে সেটা তখনই সম্ভব, যখন মিয়ানমারে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। তারেক রহমানের ভাষায়, যত দিন নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্ভব না হবে, তত দিন তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে এবং নির্বাচনের পর রাজনীতির নতুন সমীকরণ কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au