মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সোমবার তাঁকে কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির করা হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। এ বিষয়ে তাঁর আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে জানান, নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য না হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন ম্যাক্সওয়েল।
যৌনসংক্রান্ত মানব পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন গিলেন ম্যাক্সওয়েল। জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা ও সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানতে কংগ্রেস এই শুনানির আয়োজন করে। সম্প্রতি এপস্টিন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। এসব নথিতে রাজনীতি, ব্যবসা ও সমাজের নানা প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় কংগ্রেস সদস্যরা ম্যাক্সওয়েলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করেছিলেন।
কিন্তু শুনানিতে তিনি নীরব থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমার। তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজের দোষ স্বীকার না করার অধিকার রয়েছে এবং ম্যাক্সওয়েল সেই অধিকারই ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর মতে, এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে জড়িত অপরাধ নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি ছিল, যা এই নীরবতার কারণে পাওয়া গেল না।
কোমার আরও জানান, ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা হাউস প্যানেলকে জানিয়েছেন, তাঁদের মক্কেল তখনই কংগ্রেসের সামনে বক্তব্য দেবেন, যদি তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করেন। আইনজীবীরা জবানবন্দির বিনিময়ে দায়মুক্তির বিষয়টি সামনে আনেন এবং এ জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আইনপ্রণেতারা এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
এপস্টিন–সংক্রান্ত যৌন অপরাধের মামলায় গিলেন ম্যাক্সওয়েলই এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তি যিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ৬৪ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েলকে ২০২১ সালে দোষী ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। আদালতে প্রমাণিত হয়, তিনি ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সরবরাহে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে তারকা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক এবং বড় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের যোগাযোগ ছিল বলেও উঠে আসে।
এই মামলার বিচার চলাকালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জেফরি এপস্টিনের। তাঁর মৃত্যুর পরও মামলাটি ঘিরে বিতর্ক থামেনি। এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জবানবন্দির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও তলব করেছে কংগ্রেসের হাউস কমিটি। যদিও এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ থাকলেও একসময় তাঁকে সরাসরি জবানবন্দির জন্য তলব করা হয়নি, যা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au