‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণ পেয়েও ভারত, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্তত ছয়টি দেশ কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক নির্বাচন সংস্থাও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সাড়া দেয়নি।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ব্রাজিল, মিসর, কুয়েত, মরক্কো ও রোমানিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে নির্বাচন সামনে চলে এলেও এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক বা চূড়ান্ত সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোसा থেকেও কোনো উত্তর আসেনি।
সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট আটটি দেশ ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আদৌ পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আর মাত্র দু’দিন বাকি থাকায় নতুন করে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সম্ভাবনাও কমে এসেছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি অতিথি বাংলাদেশে আসছেন। ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে আসবেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন অতিথি প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে আসছেন প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে আসা প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আইক্যাপ্পির স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। তুরস্ক থেকে ছয়জন সংসদ সদস্য ও দেশটির সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল আসছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধি দল এবং ফিলিপাইন, জর্জিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসছেন ২২৩ জন পর্যবেক্ষক। এ ছাড়া কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন।
বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন ৪৮ জন সাংবাদিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা থেকে সাতজন সাংবাদিকসহ জাপানের এনএইচকে, বিবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, এবিসি অস্ট্রেলিয়া ও ডয়চে ভেলের প্রতিনিধিরাও নির্বাচন কাভার করতে বাংলাদেশে থাকবেন। এ ছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও তালিকায় রয়েছেন।
সরকারি সূত্র জানায়, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু বিদেশি অতিথি ঢাকায় পৌঁছেছেন এবং বাকিরা শিগগিরই আসবেন বলে জানানো হয়েছে। ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার একটি হোটেলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁদের জন্য আতিথেয়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au