চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর ৪ আসনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফল ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বাতিল ও পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ফল প্রভাবিত করে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি এর প্রার্থী আখতার হোসেনকে বিজয়ী দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে রংপুরের হারাগাছ এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলো কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এমদাদুল হক ভরসা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ও পৃথকভাবে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে এমদাদুল দাবি করেন, ভোটের দিন পরিকল্পিতভাবে একটি ‘মব’ তৈরি করা হয়, যার প্রভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আখতার হোসেনের সমর্থকেরা কয়েকটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেন এবং প্রশাসনের একটি অংশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, তাঁর প্রতীক ধানের শীষে দেওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এজেন্টদের আপত্তি সত্ত্বেও ধানের শীষে সিল মারা বহু ব্যালট অবৈধ ঘোষণা করা হয়, যা চূড়ান্ত ফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না এবং তাঁর প্রতিনিধিদের অনেক ক্ষেত্রে গণনা প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। যেখানে ব্যবধান কম, সেখানে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল হওয়া স্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্গণনার দাবি জানান।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ও বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি ও আগ্রহ থাকলেও গণনার সময় নানা অসংগতি চোখে পড়েছে। প্রকৃত ফল জানতে হলে পুনর্গণনা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
অভিযোগের বিষয়ে আখতার হোসেনের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ফল জনগণের রায়ের প্রতিফলন। তাদের মতে, পরাজয় মেনে নিতে না পেরে বিএনপির প্রার্থী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রংপুর-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এবারের নির্বাচনে একাধিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। ফল ঘোষণার পর থেকেই বাতিল ভোটের সংখ্যা ও গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী অভিযোগ নতুন নয়, তবে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হলে জনআস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au