খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- আজ পয়লা ফাল্গুন। বাংলা সনের একাদশ মাসের প্রথম দিন। ঋতুচক্রের আবর্তনে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের দিন। ক্যালেন্ডারের হিসেবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু বাংলার মননে দিনটি আলাদা পরিচয়ে ধরা দেয়—বসন্ত বরণের আনন্দে।
বসন্ত মানেই পরিবর্তন। প্রকৃতির রুক্ষতা ঝরে গিয়ে চারপাশে নতুন সবুজের উচ্ছ্বাস। শীতের কুয়াশা সরে গিয়ে রোদে নরম উষ্ণতার ছোঁয়া। গাছে গাছে কচি পাতার দোলা, শিমুল–পলাশের আগুনরাঙা ফুল, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন আভা। বাতাসে ভেসে বেড়ায় অচেনা মিষ্টি গন্ধ। পাখির কূজন, প্রজাপতির ডানায় রঙের মেলা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নিজেই উৎসবের আয়োজক।
এই দিনটিকে ঘিরে বাংলাদেশে পয়লা ফাল্গুন ও বসন্ত বরণ উৎসব উদযাপনের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বসন্ত বরণের আয়োজন করে। এরপর থেকে এটি নগর সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রাঙ্গণে আয়োজন হয় গান, আবৃত্তি, নৃত্য আর রঙের উৎসব। নারীদের শাড়িতে হলুদ, কমলা, লাল; পুরুষদের পাঞ্জাবিতে বসন্তের রঙ। ফুলের মালা, খোঁপায় গাঁদা বা কৃষ্ণচূড়া—সব মিলিয়ে এক অনাড়ম্বর কিন্তু প্রাণময় আবহ।
একই দিনে বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা দিবসও পালিত হয়। ফলে অনেকের কাছে দিনটি দ্বিগুণ আনন্দের। তবে বাংলার বসন্ত বরণ কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার উৎসব নয়; এটি প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনমেলা।
‘ফাল্গুন’ নামটির উৎস ফাল্গুনী নক্ষত্র। প্রাচীন কালে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ—উভয় গণনাপদ্ধতিই প্রচলিত ছিল। ফাল্গুনকে ধরা হতো পূর্ণ চন্দ্রের মাস হিসেবে। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৫০ ও ১৯৬০–এর দশক থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের রীতি গড়ে ওঠে। সে সময় পূর্ববাংলার মানুষ সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রয়াসে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও বাঙালি ঐতিহ্যচর্চার মাধ্যমে নিজস্ব পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসতে শুরু করেন। বসন্ত বরণ সেই সাংস্কৃতিক জাগরণেরই একটি অংশ।
বসন্ত নিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসংখ্য সৃষ্টি রয়েছে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত।” বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম–এর গানে আছে বসন্তের বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধের কথা। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর বসন্তবিষয়ক কবিতা ও গান বাঙালির চেতনাকে আজও আলোড়িত করে।
তবে ফাল্গুন কেবল রঙ ও রোমাঞ্চের মাস নয়, এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও গভীর। ফাল্গুনের লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ। রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের রক্তে রাঙা হয়েছিল এই মাস। সেই আত্মদানের পথ বেয়ে এসেছে স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাই ফাল্গুন একদিকে যেমন প্রেম ও নবজাগরণের প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি দ্রোহ ও আত্মমর্যাদারও স্মারক।
আজকের দিনে তাই বসন্ত কেবল ঋতু পরিবর্তনের বার্তা নয়; এটি স্মৃতি, সংস্কৃতি, সংগ্রাম আর আশার সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। নতুন পাতার মতোই নতুন স্বপ্ন জাগুক, পুরোনো ক্লান্তি ঝরে যাক—এই প্রত্যাশায় পয়লা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au