প্রথম দফা ভোটের পর ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০ জয়ের দাবি অমিত শাহর
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে জয়ের দাবি করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।…
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- গাজা ইস্যুতে জুরি বোর্ডের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অরুন্ধতী রায় সরে দাঁড়ালেন বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (বার্লিনালে) থেকে। বুকারজয়ী এই ভারতীয় লেখিকা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উৎসবের জুরি সদস্যদের ‘অযৌক্তিক ও সংবেদনহীন’ মন্তব্যের প্রতিবাদেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বছর উৎসবের ক্লাসিক বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল তাঁর লেখা চিত্রনাট্যের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে নিজের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করেন তিনি। এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে অরুন্ধতী জানান, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের নীরব থাকা উচিত নয়—বিশেষ করে যখন মানবিক বিপর্যয় চোখের সামনে ঘটে চলেছে।
বিতর্কের সূচনা হয় এবারের সাত সদস্যের জুরি বোর্ডের প্রধান, জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স-এর মন্তব্য ঘিরে। তিনি বলেন, “আমরা যদি রাজনৈতিক সিনেমা বানাই, তাহলে রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করব। কিন্তু আমরা রাজনীতির প্রতিপক্ষ—আমাদের কাজ মানুষের জন্য, রাজনীতিবিদদের জন্য নয়।”
একই সুরে আরেক জুরি সদস্য ইভা পুশচিনস্কা মন্তব্য করেন, পরিচালকদের কাছে ইজরায়েল না প্যালেস্টাইন—কাকে সমর্থন করছেন তা জানতে চাওয়া ‘অন্যায়’। তাঁর ভাষায়, “বিশ্বে আরও অনেক যুদ্ধ আছে যেখানে গণহত্যা হয়, কিন্তু সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলি না।”
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অরুন্ধতী রায় লেখেন, “আমি হতবাক ও বিরক্ত। গাজায় যা ঘটছে, তা স্পষ্টতই ইজরায়েলের হাতে প্যালেস্তিনীয় জনগণের হত্যা। এই যুদ্ধ বন্ধে শিল্পী, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের তাঁদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে আওয়াজ তোলা উচিত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ ইউরোপের একাধিক দেশের প্রশাসন এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে—ফলে তারাও দায় এড়াতে পারে না।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে ‘গড অফ দ্য স্মল থিংস’ উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার অর্জন করেন অরুন্ধতী রায়। সাহিত্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান বরাবরই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।
অরুন্ধতীর এই সিদ্ধান্তে উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর মতো একজন প্রাজ্ঞ ও প্রভাবশালী কণ্ঠের অনুপস্থিতি উৎসবের জন্য নিঃসন্দেহে ক্ষতি। তবে বিতর্কের আবহে বার্লিনালে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—শিল্প কি রাজনীতির ঊর্ধ্বে, নাকি সময়ের দাবিতে তাকে অবস্থান নিতেই হয়?
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au