হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- বাংলাদেশে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন জাতীয়ভাবে…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত এই ঘটনা এখনো দেশের শ্রম খাত, বিচার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে গভীর প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে ১১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হন এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এক মুহূর্তে বহু মানুষের জীবন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যাওয়া এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রম নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
সেদিন সকালে ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ার পর ভেতরে থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক আটকে পড়েন। উদ্ধার অভিযান চলে টানা কয়েক দিন ধরে। ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে মরদেহ ও আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পশ্চিমা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, শ্রম অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর একাধিক মামলা হয়। ভবন ধসের ঘটনায় মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলা, ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের মামলা, দুর্নীতির মামলা, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা। এর মধ্যে একটি মামলা নিষ্পত্তি হলেও বাকি পাঁচটি মামলা এখনো বিচারাধীন।
হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ, আসামিদের জামিন ও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় মামলার অগ্রগতি থমকে যায়। বর্তমানে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ধীরগতিতে। মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫ জন। আদালত আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
রাজউকের করা ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের মামলায় অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত ছয় তলার পরিবর্তে আট তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মামলাতেও দীর্ঘ সময় ধরে বিচার কার্যক্রম চলছে এবং বেশিরভাগ আসামি জামিনে আছেন। একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা দুর্নীতির মামলায়ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে যুক্তিতর্ক পর্যায়ে।
অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাও এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার মূল আসামি সোহেল রানা এখনো কারাগারে আছেন, যদিও তার পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করছেন তিনি নির্দোষ এবং দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটক রয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আরেকটি মামলায় সোহেল রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও রানা প্লাজা ধসের মূল হত্যা মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
আজকের দিনটি উপলক্ষে সাভারে রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শ্রমিক, স্বজন, শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচি থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকরা বলছেন, ১৩ বছর পার হলেও তারা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। তাদের অভিযোগ, মামলার দীর্ঘসূত্রতা বিচারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এবং আইনি জটিলতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া পিছিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণে অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত রায় হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সোহেল রানাকে দীর্ঘদিন ধরে বিচার ছাড়া কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পরও প্রশ্ন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পর বিচার কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে, আর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শিক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au