হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- বাংলাদেশে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন জাতীয়ভাবে…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা সংযোজন ও প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় মারাত্মকভাবে আহত হন মোজতবা খামেনি। ওই হামলায় তাঁর বাবা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় মোজতবার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও হতাহতের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর একটি পায়ে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সেই পায়ের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর একটি হাতেও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যদিও ধীরে ধীরে সেটির কার্যক্ষমতা ফিরে আসছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে জটিল অবস্থায় রয়েছে তাঁর মুখমণ্ডল। হামলার সময় গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় তাঁর মুখ ও ঠোঁটে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ফলে কথা বলতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে তাঁর স্বাভাবিক মুখাবয়ব ও বাকশক্তি আংশিক পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক ধাপে প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
শারীরিকভাবে গুরুতর অবস্থায় থাকলেও মানসিকভাবে সচেতন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নিজেকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে না চাওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগগুলো লিখিত বার্তার মাধ্যমে পরিচালনা করছেন।
বর্তমানে তাঁর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি পেশাগতভাবে একজন হৃদ্রোগ সার্জন। সম্ভাব্য নজরদারি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সাক্ষাৎও সীমিত রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংস্থা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সংস্থাটির শীর্ষ জেনারেলদের পরামর্শ ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আহমাদ বাহিদি, জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদর এবং শীর্ষ উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনজনসহ সামরিক নেতৃত্বের একটি বলয় এখন কার্যত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার কাঠামো তুলনামূলকভাবে পেছনের সারিতে চলে গেছে। সরকার এখন মূলত অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মতো দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবসময় একাধিক ক্ষমতাকেন্দ্র সক্রিয় থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভারসাম্য স্পষ্টভাবে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মোজতবা খামেনির শারীরিক সীমাবদ্ধতা এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au