মার্কিন কংগ্রেস ভবন, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১৬ ফেব্রুয়ারি- মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ বিল। এর ফলে দেশটির সামরিক সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মিয়ানমারকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিজিমা ও ইরাবতীর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে যৌথভাবে আনা বিলটি গত সোমবার নিম্নকক্ষে গৃহীত হয়। বিলটির পূর্ণ নাম ‘ব্রিংগিং রিয়েল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ভায়া এনফোর্সমেন্ট ইন বার্মা অ্যাক্ট’, সংক্ষেপে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’। গত বছরের মে মাসে মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বিল হুইজেঙ্গা এটি উত্থাপন করেন।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন যাবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ মার্কিন সিনেট–এ। সেখানে অনুমোদন পেলে তা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হবে।
আইনে রূপ নিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতি বছর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস সংস্থা, মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংক এবং দেশটির জেট জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে কি না। আগামী সাত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে তাঁর।
বর্তমান আইনে মিয়ানমারের নির্দিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং তাদের পক্ষে কাজ করা বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। নতুন আইনের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩২ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো এবং প্রয়োগ আরও কঠোর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে হুইজেঙ্গার কার্যালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি কার্যকর হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার হতে পারে এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আরও স্পষ্ট বার্তা পাবে।