স্বাস্থ্য ও শিশুযত্ন নিয়ে হ্যানসনের মন্তব্যে চাপে ওয়ান নেশন
মেলবোর্ন, ২১ জুন- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়ে পুরোনো পরীক্ষিত কৌশলেই এগোতে চাইছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দেশটির ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী পলিন…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও ক্রীড়াভিত্তিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে দুই দেশ। এর অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়, সাহিত্য অনুবাদ, শিল্প-সংস্কৃতি এবং ফুটবলভিত্তিক জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসার সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিশেষ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, আর্জেন্টিনার মানুষ বাংলাদেশ বলতে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে করে। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও লেখকদের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কেও আর্জেন্টিনাবাসী জানতে আগ্রহী। তিনি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলো স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের লেখক ও প্রকাশকদের বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক বাউল সম্রাট লালন শাহের গানেরও প্রশংসা করেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত। তিনি লালনের দর্শন ও সংগীতকে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে লাতিন আমেরিকার পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্জেন্টিনার সমর্থন এবং স্বাধীনতার পরপরই দেশটির কূটনৈতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে চায়।
মন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি খসড়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি আর্জেন্টিনার কাছে পাঠিয়েছে। সেটি দ্রুত চূড়ান্ত হলে শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বিনিময়ের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাংলাদেশের বাউল ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিশ্বখ্যাত ট্যাঙ্গো এবং চ্যামামে নৃত্যের এক অনন্য সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই দুই দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব ছিল বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়কের নামকরণ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশগত সামঞ্জস্য বিবেচনায় বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় উদ্ভিদ আর্জেন্টিনায় রোপণ ও স্থানান্তরের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
ফুটবলভিত্তিক বন্ধন আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তারা বাংলাদেশে এসে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোটি ভক্তের উন্মাদনা, সমর্থন ও সাংস্কৃতিক বন্ধন নিয়ে বিশেষ ভিডিওচিত্র ও ভ্লগ তৈরি করবেন। এসব কনটেন্ট আর্জেন্টিনায় প্রচারিত হবে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের আতিথেয়তা এবং ফুটবলের প্রতি তাদের আবেগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au