স্বাস্থ্য ও শিশুযত্ন নিয়ে হ্যানসনের মন্তব্যে চাপে ওয়ান নেশন
মেলবোর্ন, ২১ জুন- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়ে পুরোনো পরীক্ষিত কৌশলেই এগোতে চাইছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দেশটির ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী পলিন…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস জলাভূমিতে বার্মিজ অজগর দীর্ঘদিন ধরেই এক আতঙ্কের নাম। স্থানীয় বন্যপ্রাণী ধ্বংস, খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাবের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর আগ্রাসী প্রাণীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এ বিশালাকার সাপ। তবে এবার গবেষকরা বার্মিজ অজগরের আরেকটি অপ্রত্যাশিত ভূমিকার সন্ধান পেয়েছেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সাপ শুধু প্রাণী শিকারই করছে না, বরং বীজ ছড়িয়ে এভারগ্লেডসের উদ্ভিদজগতেও পরিবর্তন আনছে।
সম্প্রতি জার্নাল অব জুলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং কনজারভেন্সি অব সাউথওয়েস্ট ফ্লোরিডার একদল গবেষক।
গবেষণায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা থেকে সংগ্রহ করা বার্মিজ অজগরের পরিপাকতন্ত্র বিশ্লেষণ করে ২৫ ধরনের উদ্ভিদের বীজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থানীয় উদ্ভিদ ক্যাবেজ পাম ও ক্রিপিং কিউকাম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির বীজও রয়েছে। গবেষকদের মতে, ফলভোজী পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে এসব বীজ অজগরের শরীরে প্রবেশ করে এবং পরে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটিকে ‘সেকেন্ডারি সিড ডিসপারসাল’ বা দ্বিতীয় স্তরের বীজ বিস্তার বলা হয়। অর্থাৎ কোনো প্রাণী ফল খেয়ে বীজ গ্রহণ করার পর সেই প্রাণীকে অজগর খেয়ে ফেলে এবং পরে অন্য স্থানে গিয়ে বীজগুলো নির্গত করে। এর ফলে উদ্ভিদের বিস্তার নতুন অঞ্চলে ঘটতে পারে।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বীজের টিকে থাকার হার পরীক্ষা করা। এতে দেখা যায়, ক্যাবেজ পামের প্রায় ৪০ শতাংশ বীজ অজগরের হজম প্রক্রিয়া অতিক্রম করার পরও জীবিত থাকে এবং পরবর্তীতে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছ জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
গবেষকরা মনে করছেন, এর ফলে বার্মিজ অজগর অনিচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় এবং বহিরাগত উভয় ধরনের উদ্ভিদের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি এভারগ্লেডস অঞ্চলের উদ্ভিদবিন্যাস ও বাস্তুসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।
গত দুই দশকে বার্মিজ অজগরের বিস্তারে এভারগ্লেডসের বহু স্থানীয় প্রাণীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। র্যাকুন, খরগোশ, শিয়ালসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রায় বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। একসময় এসব প্রাণীই ছিল বীজ বিস্তারের প্রধান বাহক। এখন সেই ভূমিকার একটি অংশ অজগর পালন করছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় বীজবাহক প্রাণীদের জায়গায় একটি আক্রমণাত্মক শিকারি প্রাণীর এই ভূমিকা গ্রহণের ফলাফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এতে কিছু উদ্ভিদের বিস্তার বাড়লেও বাস্তুতন্ত্রে নতুন ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেলিসা মিলার বলেন, বার্মিজ অজগরের মতো দীর্ঘজীবী ও গোপন স্বভাবের প্রাণীদের পরিবেশগত প্রভাব বুঝতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের অনেক প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না, বরং বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ গবেষণা প্রমাণ করেছে যে আগ্রাসী প্রাণী প্রজাতির ক্ষতি শুধু সরাসরি শিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা বাস্তুতন্ত্রকে নানাভাবে পরিবর্তন করতে পারে, যার অনেক দিক বিজ্ঞানীদের কাছেও দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায়।
ফলে একসময় যে বার্মিজ অজগরকে শুধু ভয়ংকর শিকারি হিসেবে দেখা হতো, এখন দেখা যাচ্ছে সে এভারগ্লেডসের ভবিষ্যৎ উদ্ভিদজগতকেও প্রভাবিত করছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এটি শুধু একটি সাপের গল্প নয়, বরং একটি পুরো বাস্তুতন্ত্র কীভাবে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, তারই নতুন অধ্যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au