মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় দেশের অন্তত ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী স্থান পাননি। দলীয় ফলাফল, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশের দিক থেকে এবারের মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু এলাকায় প্রত্যাশার তুলনায় প্রতিনিধিত্ব কম, আবার কিছু অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও জামায়াত–অধ্যুষিত জেলায় প্রতিনিধিত্ব নেই
রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি জেলা থেকে এবার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। গোপালগঞ্জ থেকে এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি তিনজন সংসদ সদস্য পেলেও মন্ত্রিসভায় এ জেলার কাউকে রাখা হয়নি। একইভাবে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে বিএনপি একাধিক আসনে জয়ী হলেও সেখান থেকেও কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি।
অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলা, যেগুলো জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখান থেকেও কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা—এই আট জেলার ৩০টি আসনের একটিতেও বিএনপি জয়ী হয়নি। ফলে এসব জেলা থেকে স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
বিএনপির ঘাঁটি নোয়াখালী থেকেও কেউ নেই
বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা থেকেও এবার কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। অতীতে এ জেলা থেকে মওদুদ আহমদের মতো প্রভাবশালী নেতা মন্ত্রী হয়েছেন। তবে এবার জেলার কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিত্ব পাননি। যদিও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ফেনী ও লক্ষ্মীপুর থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন।
বড় জেলার মধ্যে খুলনা থেকে এবার কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি জয়ী হলেও মন্ত্রিসভায় এ জেলার প্রতিনিধিত্ব নেই। একইভাবে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি পরাজিত হয়েছে। একমাত্র জয়ী প্রার্থী অনিন্দ ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর বাবা তরিকুল ইসলাম অতীতে বিএনপির সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।
ঢাকায় উপস্থিতি, আশপাশে শূন্যতা
রাজধানী ঢাকা থেকে পূর্ণ মন্ত্রী ও একাধিক প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে। শেখ রবিউল আলম প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। এ ছাড়া চারজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যাদের একজন টেকনোক্র্যাট কোটায়।
তবে ঢাকা জেলার আশপাশের অনেক জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর—এই তিন জেলা থেকেই এবার কেউ মন্ত্রী হননি। অতীতে এসব জেলা থেকে একাধিক প্রভাবশালী নেতা মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জে পাঁচটির মধ্যে চারটিতে বিএনপি জয়ী হলেও কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি। গাজীপুরেও চারটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও প্রতিনিধিত্ব নেই।
ঢাকা জেলার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই—এই এলাকাগুলো থেকেও জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রী হননি।
উত্তরবঙ্গে তুলনামূলক আধিক্য
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএনপি আসনসংখ্যায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও মন্ত্রিসভায় এ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব লক্ষণীয়। রংপুর বিভাগে বিএনপি ১৩টি আসন পেলেও সেখান থেকে একাধিক পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। দিনাজপুর থেকে এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্ত্রী হয়েছেন। লালমনিরহাট থেকে আসাদুল হাবিব দুলু এবং পঞ্চগড় থেকে ফরহাদ হোসেন আজাদ যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগেও একাধিক পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং রাজশাহী থেকে মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। এ ছাড়া বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিমন্ত্রী নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের বাবা অতীতে বিএনপির সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
কুমিল্লায় বিএনপি ভালো ফল করায় মন্ত্রিসভায়ও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে বিএনপি জয়ী হয়। এ জেলা থেকে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন—মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। বৃহত্তর কুমিল্লার চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও একজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নেওয়া হয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভায় এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাঁদের বাবা অতীতে বিএনপির সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। যশোরের অনিন্দ ইসলাম ও নাটোরের ফারজানা শারমিন এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য। ফরিদপুর থেকে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং রাজবাড়ী থেকে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
নতুন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীরা মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেন। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সব মিলিয়ে এবারের মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, দলীয় ফলাফল এবং রাজনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত অধ্যুষিত জেলা এবং বিএনপির কিছু ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি থেকেও প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au