মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দিচ্ছেন না। তার নাম সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ উল্লেখ হওয়ায় তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গেটস ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গেটসের পরিবর্তে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন আফ্রিকা ও ভারত শাখার প্রেসিডেন্ট অঙ্কুর ভোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গেটস ফাউন্ডেশন বলেছে, “অনেক চিন্তাভাবনার পর এবং এআই সামিটের মূল বিষয়গুলোতে যাতে সবার মনোযোগ থাকে তা নিশ্চিত করতে বিল গেটস ভাষণ দেবেন না।”
সম্মেলনের মূল অংশগ্রহণকারীদের তালিকা থেকে গত মঙ্গলবার সকালে বিল গেটসের নাম বাদ পড়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, ভারত সরকার এপস্টিন ঘটনার ভুক্তভোগীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চায়।
তবে মঙ্গলবার রাতেই গেটসের নাম আবার তালিকায় যুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার চায় সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—কেন্দ্রেই মনোযোগ থাকুক এবং অন্য কোনো বিতর্ক যেন অনুষ্ঠানকে ছাপিয়ে না যায়। শেষ পর্যন্ত গেটস ফাউন্ডেশনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, তিনি নিজেই ভাষণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সোমবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন এআই–বিষয়ক চতুর্থ বার্ষিক আন্তর্জাতিক আয়োজন। এর আগে ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০২৫ সালে ফ্রান্সে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ নামে ভারতে এর আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শতাধিক সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বের ৫০০–র বেশি এআই বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিমালা, উদ্ভাবন, নৈতিকতা ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত নানা ইস্যু এখানে আলোচিত হচ্ছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ বিল গেটসের নাম উল্লেখ করা হয়। জেফরি এপস্টিন ছিলেন একজন দণ্ডিত যৌন নিপীড়ক, যিনি ২০১৯ সালে মার্কিন কারাগারে আত্মহত্যা করেন।
প্রকাশিত নথির একটি ই–মেইলের খসড়ায় এপস্টিন অভিযোগ করেন, গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের যোগাযোগ ছিল। তবে ওই ই–মেইল কখনো পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে।
বিল গেটস এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে কাটানো “প্রতিটি মুহূর্তের জন্য” তিনি অনুতপ্ত। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাইছি।” তবে সংশ্লিষ্ট ই–মেইলকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
গেটস জানান, ২০১১ সালে এপস্টিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার নৈশভোজে দেখা হয়েছিল। তবে তিনি কখনো এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়াননি বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, এপস্টিন বহু ধনী ব্যক্তিকে চিনতেন এবং বিশ্বস্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।
গেটস ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র বলেন, প্রকাশিত নথি থেকে কেবল এটুকুই বোঝা যায় যে গেটসের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক না থাকায় এপস্টিন হতাশ ছিলেন এবং তাকে বিব্রত করতে চেয়েছিলেন।
বিতর্কের জেরে গেটসের ভাষণ বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনেকে ইভেন্টকেন্দ্রিক মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি সরাসরি অংশ না নিচ্ছেন, তবুও তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এপস্টিন–সম্পর্কিত বিতর্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে গেটসের ভবিষ্যৎ জনসম্মুখ উপস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং প্রযুক্তি–কেন্দ্রিক বৈশ্বিক আলোচনায় তার ভূমিকা কীভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে।
সূত্রঃ এনডিটিভি