গাইবান্ধায় হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, নারীসহ আহত ৪
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাষাশহীদ ও ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিত স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন অযত্নে পড়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দেওয়া হলেও বছরের বাকি সময় এসব স্থাপনার খোঁজখবর নেওয়া হয় না।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে স্মৃতিচিহ্নগুলোর সংরক্ষণে স্থায়ী উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তারা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বছরজুড়ে কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
কমলনগর উপজেলার ভাষাসংগ্রামী কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হাজিরহাটের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানো হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুমুর থেকে কমলনগর সড়ক নির্মাণে কমরেড তোয়াহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সড়কটি তাঁর নামে নামকরণের দাবি জানান তিনি। অন্য বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন ও আবদুল করিম বলেন, কমরেড তোয়াহা ছিলেন সবার মানুষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।
একই উপজেলার ভাষাসংগ্রামী ও চারণ সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী-র স্মৃতিচিহ্নও অবহেলায় পড়ে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া এই সংগঠক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে রাজধানীর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর শেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকা ঘরটি সম্প্রতি আগুনে পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় বসবাস করায় স্থাপনাটি দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে আছে। দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, কমরেড তোয়াহা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁর সমাধি কমলনগরে থাকা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে শিগগির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
লেখক: রফিকুন নবী
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au