গাইবান্ধায় হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, নারীসহ আহত ৪
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- একুশে ফেব্রুয়ারি এলে ভাষাশহীদদের স্মরণে ফুল দেওয়া হয়, কিন্তু পরদিন থেকেই তাদের স্মৃতির খোঁজ রাখে না কেউ—এমন আক্ষেপ ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার–এর পরিবারের। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের শিমুলকুচি গ্রামে তাঁর বাড়ি ও স্মৃতিচিহ্নগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
শহীদ জব্বারের ভাতিজি রাশিদা বেগম বলেন, প্রায় ৮০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাড়ি দিয়ে তাঁর ছেলের বাড়িতে যেতে হয়। গ্রামেই শহীদের মা, স্ত্রী ও সন্তানের কবর রয়েছে, যা অযত্নে পড়ে আছে। দেখিয়ে না দিলে চেনার উপায় নেই। বাড়ির পাশে নির্মিত শহীদ মিনারটিও এখন ভগ্নদশায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জব্বারের নামে গ্রামে একটি শহীদ মিনার, একটি মসজিদ, পাঠাগার এবং ‘আবদুল জব্বার স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ রয়েছে। মসজিদটি উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে একবার সংস্কার করা হলেও শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনী তুলে ধরতে এসব স্থাপনা সংস্কার জরুরি বলে দাবি করেন তারা।
জানা যায়, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের জন্ম গফরগাঁও উপজেলায়। ১৯৫০ সালের শেষ দিকে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিমুলকুচি গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি শহীদ হন। তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন ও ছেলে নুরুল ইসলাম বাদল ওই গ্রামেই বসবাস করেন।
২০০০ সালের দিকে তাঁর ছোট ভাই আবদুল কাদিরের দেওয়া ২৫ শতাংশ জমিতে নির্মিত হয় ‘ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার জামে মসজিদ ও পাঠাগার’। ২০০৭ সালে গড়ে ওঠে ‘ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন’, যা ২০১০ সালে মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায়। ২০০৮ সালে জব্বারের স্ত্রী ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে ছোট একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। পরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০১০ সালে নতুন করে শহীদ মিনার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে সেটি প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায়।
২০১১ সালে আমেনা খাতুন মারা যান। তাঁকে জামে মসজিদের পাশেই দাফন করা হয়। ২০২১ সালে মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাদল। তাঁকেও বাড়ির আঙিনায় সমাহিত করা হয়েছে। কবরটি বাঁশের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জব্বারের নাতনি আফরোজা আক্তার বলেন, ভাষাশহীদকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকারি সুযোগ-সুবিধাও তারা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান বলেন, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে গত অর্থবছরে কিছু সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ মিনারটি এমন স্থানে নির্মিত, যেখানে সংযোগ সড়ক নেই। জমির মালিকরা জমি দিতে সম্মত হলে চলতি বছরের বরাদ্দ থেকে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au