মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি মস্কো বা কিয়েভ “শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো খুব কঠিন করে তোলে”, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আলোচনার মধ্যস্থতা থেকে “পিছিয়ে আসবে”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোডিমির জেলেনস্কির একটি চিঠি পড়ে শোনান এবং ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ” এই চিঠি পাঠানোর জন্য আমি জেলেনস্কির প্রশংসা করি।”
গতকাল কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত এবং রাশিয়াও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি জেলেনস্কির চিঠিটি পড়ে শোনান, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “এই চিঠিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি এটিকে স্বাগত জানাই।”
এই ভাষণের মধ্য দিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্কের পর ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের রাজনীতিবিদ ও কর্মী হেওরহি তুকা বলেন, “সৌভাগ্যবশত, কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়নি।”
সাবেক সংসদ সদস্য বোরিস্লাভ বেরেজা বলেন, “হোয়াইট হাউসের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা সফল হয়েছে, যা একটি ভালো লক্ষণ।”
সংসদ সদস্য মাইকোলা নিয়াজিতস্কি বলেন, “ট্রাম্পের ভাষণ আমাদের জন্য আশানুরূপ ছিল। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে তার বক্তব্য খুব সুনির্দিষ্ট ছিল না।
অন্য একজন সংসদ সদস্য ওলেক্সি হনচারেনকোও ট্রাম্পের ভাষণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের লাল রেখাগুলো স্পষ্ট করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়াশিংটনে তার মার্কিন সমকক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন, যেখানে ইউক্রেন সংকট শীর্ষ আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
ট্রাম্পের এই ভাষণ ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যৎ কী দিকে মোড় নেয়, তা এখনও অনিশ্চিত।