চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা বিস্তৃত শুল্ক সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ওভাল অফিসে বসে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
শুক্রবার ৬-৩ ভোটের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের মতে, ওই আইনে ‘নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘আমদানি’ শব্দ থাকলেও তা প্রেসিডেন্টকে যেকোনো দেশের ওপর যেকোনো হারে এবং অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। এ ধরনের অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন, যা এখানে প্রমাণিত হয়নি।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্যের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে গত কয়েক মাসে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তাও দেখা দিয়েছে।
রায়ের পর হোয়াইট হাউসে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, আদালত ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তার মতে, যেসব বিদেশি রাষ্ট্র এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করছিল তারা এই রায়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি আরও বলেন, শুল্ক কার্যকরের জন্য তার হাতে আরও বিকল্প আইন আছে এবং নতুন ব্যবস্থা আগের চেয়েও বেশি রাজস্ব আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতেই এসব শুল্ক প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
রায়ে ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গরসাচ সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে একমত হন। অন্যদিকে রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানাহ ও স্যামুয়েল আলিতো ভিন্নমত পোষণ করেন। ট্রাম্প বলেন, তার মনোনীত বিচারপতিরা বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় তিনি লজ্জিত।
আদালতের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রায়কে স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করলেও শুল্কের অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
একই দিন ট্রাম্প সেকশন ১২২ নামে আগে কখনও ব্যবহার না হওয়া একটি আইনের অধীনে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এই আইনে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন আদেশে কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, সার, কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিপণ্য, ওষুধ, কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ও নির্দিষ্ট গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোন পণ্য ছাড় পাবে তা স্পষ্ট নয়।
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর বেশিরভাগ পণ্য আগের মতোই ছাড় পাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে থেকেই বাণিজ্য চুক্তি করা দেশগুলোর ওপরও নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রযোজ্য হবে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রথমে মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। পরে তা বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা হয়। হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, জরুরি পরিস্থিতিতে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া আছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, এতে আমদানি পণ্যের খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই আইনের আওতায় ইতোমধ্যে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছে। বহু প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করেছে, যাতে তারা সম্ভাব্য ফেরতের দাবিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে আদালতের রায়ে সরাসরি শুল্ক ফেরতের নির্দেশ নেই। বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে নিষ্পত্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au