চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২২ ফেব্রুয়ারি- পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার আশার তেমন কোনও সম্ভাবনা থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওয়াশিংটন ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্ববৃহৎ সামরিক সমাবেশ করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলের জন্যও আশঙ্কাজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের সূত্র মতে, ইসরায়েল সরকার মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে একটি অচল অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। গত বছরের জুনে দুই দেশের যৌথ হামলা চালানো হয়েছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায়; যদি এবার হামলা হয়, তবে এটি এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা হবে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ার বলেছেন, উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশাল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পর কোনও সাধারণ চুক্তি ফেরাতে পারবেন না, কারণ এতে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। অন্যদিকে আক্রমণ করলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেবে।
জেনেভায় গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় ‘নির্দেশনামূলক নীতি’ নিয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা করা হলেও মূল সমস্যাগুলো সমাধান হয়নি। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে গেলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তা খোলার জন্য রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে হবে, নয়তো খুব খারাপ কিছু ঘটবে।” ট্রাম্প হামলার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। জবাবে ইরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা করা হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করবে এবং এরপর রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই বাহিনী হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে থাকে, যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে।
তবে ইউরোপীয় এবং আরব দেশগুলো ট্রাম্পের ‘শেষ লক্ষ্য’ নিয়ে সন্দিহান। তারা জানতে চাচ্ছে, এই হামলার উদ্দেশ্য কি কেবল ইরানের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করা, নাকি সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে কিছু নমনীয়তার আভাস পাওয়া গেছে। খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কে ব্যাপক তদারকির সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ইরানের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হবে কিনা তা খামেনির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au