চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- ঢাকার পরিবেশগত পরিস্থিতি ও বাসযোগ্যতা ফেরানোর ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৫ সালের গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা অবস্থান করেছে ১৭১তম স্থানে। বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পেছনে রয়েছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি।
একই সময়ে ঢাকার বায়ুদূষণও বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুমান বছরের অধিকাংশ সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে থাকে। খোলা স্থানে বর্জ্য পোড়ানো, নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ শহরের পরিবেশকে আরও সংকটাপন্ন করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরের মেয়াদে বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও সবুজায়নের ঘাটতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। নদী-খাল দখল, বন উজাড় এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাবকে উপেক্ষা করার ফল এখন স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ মনে করেন, নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঢাকাকে আবার বাসযোগ্য নগরীতে রূপ দেওয়া। তিনি বলেন, “ঢাকার দূষণ এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক সমস্যা। জ্যাম ও ধুলায় ভরা শহর কখনই বিনিয়োগবান্ধব হতে পারে না। বায়ুদূষণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হচ্ছে এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে। সরকারকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানবাহনের জন্য আলাদা সড়ক নির্ধারণ করতে হবে।”
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বণিক মনে করান, নদী, বন এবং জলাশয়কে শুধুমাত্র বিলাসী দৃষ্টিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, মৎস্য ও পানির উৎস হিসেবে দেখতে হবে। সরকারের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে গণ্য করা, যাতে সেগুলোকে সুস্থ ও রক্ষা করা যায়।
ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য নগর পরিকল্পনাবিদরা গণপরিবহন, গণপরিসর, পার্ক-মাঠ, ফুটপাত ও অবকাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার মানুষ মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবে ভুগছে। বিদ্যমান পার্ক ও মাঠগুলো দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং নতুন পার্ক-মাঠ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “দেশের পরিবেশের অবস্থা খুবই খারাপ। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, নদী-খাল দূষণ এই সমস্যা সমাধানে আমরা ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করছি। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে সঠিক গাইডলাইন জানানো হবে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঢাকার পরিবেশগত দিক থেকে অবস্থা যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয়, তবে নতুন সরকারও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যর্থ হতে পারে।
সূত্র: বণিক বার্তা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au