মেলবোর্ন ২৩ ফেব্রুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনকে ঘিরে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সংঘাত এড়ানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ পরিচালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সন্ত্রাস দমন ও বিশেষ অভিযানবিষয়ক সদ্য সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি উইলিয়াম এফ ওয়েচসলার সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে দশটি পূর্বাভাস দিয়েছেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei শেষ মুহূর্তে কোনো শক্তিশালী সমঝোতা প্রস্তাব দেবেন না—এমন আস্থা তার রয়েছে। গত দেড় বছরে ইরানের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা, সিরিয়ায় Bashar al-Assad সরকারের পতন, পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভ তেহরানকে চাপে ফেলেছে। তবু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার মতো কঠোর শর্ত মানতে ইরান প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত নেই।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দুর্বল চুক্তি মেনে নেবেন না বলেই ধারণা বিশ্লেষকের।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu পরিস্থিতি জটিল হলে আগাম হামলা চালাতে পারেন বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত বছর সম্ভাব্য দুর্বল পারমাণবিক চুক্তির আশঙ্কায় ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন হস্তক্ষেপ ডেকে এনেছিল।
ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি বিকল্প থাকতে পারে—বলপ্রয়োগ জোরদার, সামরিক অবকাঠামোর পতন ঘটানো এবং নেতৃত্ব অপসারণ। প্রথমটি সীমিত সময়ের প্রতীকী হামলা, যা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে আইআরজিসিকে লক্ষ্য করবে। দ্বিতীয়টি বিস্তৃত সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনা। তৃতীয়টি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা।
বিশ্লেষকের ধারণা, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সীমিত বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিতে পারেন, যদিও এতে ঝুঁকি রয়ে গেছে। সীমিত হামলার জবাবে খামেনি প্রতীকী পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। তবে ভুল হিসাব বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। মার্কিন হতাহতের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পর্যায়ে গড়াতে পারে।
সবচেয়ে অনিশ্চিত দিক ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। মার্কিন হামলার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। বড় আকারের প্রতিবাদ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে, যা কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাতে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে—কেউ কঠোর সামরিক শাসনের আশঙ্কা করছেন, কেউ গৃহযুদ্ধের, আবার কেউ রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথা বলছেন।
সংঘাতের গতিপথ নির্ভর করবে প্রথম দফার সামরিক পদক্ষেপ এবং তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর। সীমিত হামলা নিয়ন্ত্রিত বার্তা দিতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে দ্রুত অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।