বাবলু গ্রেপ্তার, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার বাবলু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় কারখানার গেটে লোক জড়ো করা এবং স্লোগান দিয়ে জনতাকে উসকানি দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
রোববার রাতে উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন। গ্রেপ্তার বাবলু মিয়া (২৪) স্থানীয় সাইফুল ইসলামের ছেলে।
সোমবার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ৯টার দিকে পাইওনিয়ার কারখানার উত্তর গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন বাবলু প্রথমে কারখানার গেটে লোক সমবেত করেন। পরে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করেন। তার নেতৃত্বে জনতা দিপু দাসকে গেটের সামনে মারধর করে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি স্কয়ার মাস্টারবাড়ি মেইন রোডে নেওয়ার পরও তিনি জনতার সঙ্গে থেকে নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।