বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ.কে.এম. মাসুম বিল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ–১–এর অতিরিক্ত পরিচালক। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে রংপুর অফিসে বদলি করা হয়েছে।
মাসুম বিল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করার পর গভর্নর কাউন্সিলকে ডেকে পাঠান। এর আগে কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার সাক্ষাৎ চেয়েও গভর্নর সময় দেননি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে গভর্নর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্সিল স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশ আয়োজন করে, যেখানে অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে একদিনের জন্য হলেও পদত্যাগের দাবি ওঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ.কে.এম. মাসুম বিল্লাহ। ছবিঃ সংগৃহীত
নির্বাচন-পরবর্তী বোর্ড সভা নিয়ে বিতর্কও প্রকাশ করেন মাসুম বিল্লাহ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গভর্নর একদিনের নোটিশে বোর্ড সভা আহ্বান করেন। ওই সভার দ্বিতীয় এজেন্ডা ছিল ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, মোট আটটি এজেন্ডার মধ্যে বাকি সাতটি জরুরি না হলেও তড়িঘড়ি সভা ডাকা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্সিল জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরের একক সিদ্ধান্ত সমালোচনা করে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স না দেওয়ার আহ্বান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর গভর্নরের নির্দেশে কাউন্সিলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও একজন পরিচালককে শোকজ করা হয় এবং ১০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমা শেষ হবার একদিনের মধ্যে তিনজনকেই ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাসুম বিল্লাহ আরও অভিযোগ তুলেছেন, গভর্নর বিলাসবহুল টয়োটা আলফার্ড গাড়ি ২ কোটি ৮ লাখ টাকায় কিনেছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা (১.৬৯ কোটি টাকা) অতিক্রম করে। এছাড়া তিনি নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ১০ বছরের সরকারি নিয়ম অমান্য করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মেডিক্যাল সেন্টারের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম করেছেন এবং সরকারের অনুমতি ছাড়াই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাসুম বিল্লাহ এই সব পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন—কাউন্সিল যদি এসব বিষয়ে প্রতিবাদ না করতো, তাহলে কি তা সঠিক হতো? তিনি ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক সংকট, আমানতকারীদের দুর্ভোগ এবং কথিত ‘ব্যাংক লুটপাট’-এর দায় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
পোস্টের শেষাংশে মাসুম বিল্লাহ লিখেছেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা আমাদের জন্য ধর্মপালনের সমতুল্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব। স্বৈরাচার নিপাত যাক, বাংলাদেশ ব্যাংক মুক্তি পাক।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।