ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক সভায় সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ দিয়ে কর্মসূচি শুরু করা হবে। আগামী জাতীয় বাজেটে এ খাতে নিয়মিত বরাদ্দ রাখা হবে।
প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১৪টি উপজেলা থেকে একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বাছাই করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের প্রতিটি যোগ্য পরিবারের একজন নারী সদস্যের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মা বা নারী প্রধান এই সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রী জানান, ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই বসে বসে তালিকা তৈরি করা হবে না। একটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।
উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। ভুলত্রুটি এড়াতে দ্বিস্তর বিশিষ্ট যাচাই ও পুনরায় যাচাই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
সরকার জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করছে, যাতে অনিয়ম কমানো যায়। পাইলট পর্যায়ে যাদের তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙিন ছবি এবং সচল মোবাইল বা ব্যাংক হিসাব প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

বিএনপির ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি , ছবিঃবিবিসি
নির্বাচনের আগে ২২শে জানুয়ারি সিলেট এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।
তিনি তখন বলেছিলেন যে এই ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে এখন মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত উপজেলার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এখনকার পাইলট প্রকল্প আগামী চার মাসে শেষ হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি করছে সরকার। তবে আগ্রহীরা কিভাবে আবেদন করবেন তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।
পাইলট প্রকল্পে যাদের বাছাই করা হচ্ছে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙ্গিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক নম্বর থাকে সেটি নিজেদের কাছে রাখতে বলা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, পরে একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফরম থাকবে যা আগ্রহীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারের একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এরপর ১৯শে ফেব্রুয়ারি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
ওই কমিটিকে ঈদের আগেই যাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয় সেজন্য আজ মঙ্গলবারের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১০ই মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।
সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে এবং পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে কত দ্রুত এবং কতটা স্বচ্ছভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সুত্রঃ বিবিসি