ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১৮ লাখে। একই সময়ে রাশিয়া ধাপে ধাপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে এখন ইউক্রেনের ১৯ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড দখলে রেখেছে বলে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার–এর তথ্য বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রুশ বাহিনী ৪ হাজার ৫২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। আয়তনে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম অঙ্গরাজ্য রোড আইল্যান্ড–এর চেয়েও কিছুটা বড়। এর বাইরে মস্কো আরও ৭৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের দাবি করলেও স্বাধীনভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ভূখণ্ড দখলের হিসাবে যুদ্ধের দ্বিতীয় বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তৃতীয় বছরে রাশিয়া ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে। চতুর্থ বছরে অর্জিত এলাকার অর্ধেকের বেশি জায়গায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে মস্কো। বাকি অংশে অগ্রগতি থাকলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সব মিলিয়ে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ১৯ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। এর বড় অংশ দখল হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহে। যুদ্ধ শুরুর আগেই ক্রিমিয়া ও ডনবাসসহ প্রায় ৭ শতাংশ এলাকা রুশ বা রুশপন্থী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
গত ১২ মাসে রাশিয়ার অন্যতম কৌশলগত সাফল্য ছিল পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরভস্ক দখল। রাজধানী কিয়েভ থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরের এই শহরটি দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত ১ ডিসেম্বর দখলের দাবি করে রুশ সেনাবাহিনী। পোকরভস্ককে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রুশ বাহিনীর অগ্রগতির বড় অংশই হয়েছে দোনেৎস্ক অঞ্চলে, যেখানে প্রায় ২ হাজার ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে গেছে। অভিযান মাঝেমধ্যে জাপোরিঝিয়া ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে। গত বছরের জুনে প্রথমবারের মতো দোনেৎস্কের সীমানা ছাড়িয়ে অন্তত ২৩০ বর্গকিলোমিটার ভেতরে অভিযান চালায় রুশ বাহিনী।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চতুর্থ বছরে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও অগ্রগতি হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মূল বিষয়গুলোতে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
হতাহতের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ–এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম পিবিএস জানিয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উভয় পক্ষের নিহত, আহত ও নিখোঁজ সেনার সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ।
এর মধ্যে রাশিয়ার মোট হতাহত ১২ লাখ বলে অনুমান করা হয়েছে। মারা গেছেন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির জন্য এটিই সর্বোচ্চ সামরিক মৃত্যুর ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তবে রাশিয়া ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত সেনার হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬ হাজারের কিছু বেশি।
সিএসআইএসের অনুমান অনুযায়ী, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে ৫ থেকে ৬ লাখ হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। যদিও চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের ৫৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
পিবিএস জানিয়েছে, মস্কো বা কিয়েভ কেউই সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au