চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত “আমেরিকার স্বর্ণযুগ” বার্তাটি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরলেন। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং সামনে অপেক্ষা করছে নতুন এক সমৃদ্ধ অধ্যায়।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত United States Capitol ভবনের কক্ষে দেওয়া এই ভাষণ ছিল তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন। প্রথা অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ United States Senate এবং নিম্নকক্ষ United States House of Representatives–এর যৌথ অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেন।
“স্বর্ণযুগ শুরু হয়ে গেছে”
ভাষণের শুরুতেই নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার পরিচিত সুরে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকার “স্বর্ণযুগ” ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে উদ্যাপিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাঁর বর্তমান প্রেসিডেন্সিকে “যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর দাবি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব—সব ক্ষেত্রেই দেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে আরও বড় অগ্রযাত্রা সম্ভব।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্প খাতে উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে তিনি তাঁর প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, ব্যবসাবান্ধব নীতি ও কর সংস্কারের ফলে অর্থনীতি গতি পেয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও ভাষণে গুরুত্ব পায়।
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি। ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে তাঁর প্রশাসন কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করবেন না বলেও জানান।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যু স্পষ্টভাবে প্রাধান্য পায়।
ট্রাম্প যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন তাঁর সমর্থকেরা “ইউএসএ, ইউএসএ” স্লোগানে কক্ষ মুখর করে তোলেন। তবে পুরো অধিবেশনে সমর্থক ও বিরোধী সদস্যদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ছিল দৃশ্যমান। কেউ করতালিতে সমর্থন জানান, কেউবা নীরব থাকেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়াই যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতিফলন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই ট্রাম্পের ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসী এবং রাজনৈতিকভাবে সুস্পষ্ট অবস্থানধর্মী।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ঘোষিত “স্বর্ণযুগ” কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা সময়ই বলবে। তবে ভাষণটি যে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও নীতিগত অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করেছে, সে বিষয়ে সংশয় নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au