আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ জিতল ভারত! দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারত ৪ উইকেটে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতল। নিউজিল্যান্ডের ২৫১ রানের লক্ষ্য ধরে ভারত ৪৯ ওভারে ২৫৪ রান করে জয় পেয়ে যায়, যা বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। ধীরগতির পিচে ড্যারিল মিচেল (৭২) এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের (৫৮) অর্ধশতকের সুবাদে তারা ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫১ রান করে। ম্যাচের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের আগ্রাসন ছাপিয়ে ভারতের স্পিনারদের দাপট ছিল লক্ষনীয়। জসপ্রীত বুমরাহ এবং কুলদীপ যাদবের নেতৃত্বে ভারতের বোলাররা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে।
জবাবে ভারতের ইনিংসে ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা ৮৩ বলে ৭৬ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৭টি চার এবং ৩টি ছক্কা। প্রথম দিকে কিছু উইকেট হারালেও কেএল রাহুল (৩৪*) এবং হার্দিক পাণ্ড্যর (১৮) অপরাজিত ৩৮ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে জয় এনে দেয়। ৪৯ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে ভারত জয় পায়।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ভারতের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে, যখন রোহিত শর্মা এবং শ্রেয়াস আইয়ার প্রাথমিক উইকেট হারানোর পর ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। রোহিতের আক্রমণাত্মক কিন্তু পরিকল্পিত ব্যাটিং এবং রাহুল-পাণ্ড্যর পার্টনারশিপ ভারতকে জয় এনে দেয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রোহিত শর্মা ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার গুজবের অবসান টানেন। ৩৭ বছর বয়সী রোহিত স্পষ্ট জানান, তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষে রোহিত হাসতে হাসতে বলেন, “একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিই। আমি এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছি না, যাতে আগামী দিনে কোনো গুজব ছড়ানো না হয়।” এই ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রোহিতের নেতৃত্বে ভারতের দল গঠনের পথ সুগম হলো।
এই জয় দিয়ে ভারত গত তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টে ২৪ ম্যাচের মধ্যে ২৩টিতে জয় পেয়েছে। ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে একমাত্র হার ছাড়া ভারতের এই সময়কালে কোনো পরাজয় নেই। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের এই ধারাবাহিকতা তাদের আধিপত্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
ভারত এর আগে ২০১৩ সালে এবং ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার সাথে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের একমাত্র আইসিসি লিমিটেড ওভার ট্রফি হলো ২০০০ সালের আইসিসি নকআউট ট্রফি, যেখানে তারা ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল।
এই টুর্নামেন্টটি মূলত পাকিস্তানে আয়োজনের কথা ছিল, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ভারত সরকার পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় ভারতের সব ম্যাচ দুবাইতে স্থানান্তরিত হয়। এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুবাইতে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
মাঠে ভারতীয় দলের জয় উদযাপনের দৃশ্য ছিল উচ্ছ্বাসময়। দুবাই এবং ভারতে ভক্তরা আনন্দে মেতে ওঠেন, সোশ্যাল মিডিয়া জয়োল্লাসে ভরে যায়।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এটা একটা কঠিন ম্যাচ ছিল, ভারত ভালো খেলেছে। আমরা পুরো চেষ্টা করেছি, কিন্তু কখনও কখনও তা যথেষ্ট হয় না।”
২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে ভারত এখন ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে আছে। রোহিত শর্মা এবং তার দলের লক্ষ্য হলো এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এই মুহূর্তে, ভারত তাদের ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত করে আনন্দে মেতে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au