আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দুই দেশকে ‘ভালো প্রতিবেশীর মতো’ আচরণ করার এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনার সময়ে তেহরান একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ চলমান পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাকিস্তানের অভিযানের আগে তালেবানদের প্রতিশোধমূলক হামলার ঘোষণার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নিরীহ আফগান ও পাকিস্তানি নাগরিকরা আহত বা নিহত হচ্ছেন। তার মতে, উত্তেজনা প্রশমনের উত্তম পথ হলো এমন একটি কূটনৈতিক চুক্তি, যাতে দুই দেশই প্রতিশ্রুতি দেবে যে তাদের ভূখণ্ড অন্যের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেবে না। তিনি তৃতীয় পক্ষ, যেমন তুরস্ক–এর মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের প্রস্তাবও দেন।
কাবুলের দাশতি বারচি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাতের বিস্ফোরণে তার বাড়ি কেঁপে ওঠে। শুরুতে তারা ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। কয়েক দিন আগেও কাবুলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। পরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তারা বুঝতে পারেন এটি হামলা। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, বিস্ফোরণের পর এলাকাবাসী ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং সারারাত জেগে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। সকালে রাজধানীতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সীমান্তের দুই পাশে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের উমারি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন নারী ও দুজন পুরুষ, সবাই পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা শরণার্থী। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
সংঘাতের ধারাবাহিকতায় দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ করছে। তালেবান মুখপাত্রদের দাবি, কান্দাহার ও হেলমান্দে পাকিস্তানি অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ বলছে, কোনো উসকানি ছাড়াই আফগানিস্তান হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, দেশের প্রতিরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’-এর ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের অভিযানে বহু তালেবান নিহত ও আহত হয়েছে এবং একাধিক সামরিক পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের মধ্যে প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা তালেবানদের তুলনায় অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তির তালিকায় পাকিস্তান নিয়মিত শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকে।
অন্যদিকে তালেবানদের হাতে থাকা অস্ত্রের বড় অংশ এসেছে সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম, বিদেশি বাহিনীর অবশিষ্ট সামগ্রী এবং কালোবাজার থেকে সংগৃহীত অস্ত্র থেকে। অতীতের সংঘর্ষের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তারা মূলত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে গেরিলা কৌশলে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে অতর্কিত হামলা ও সড়কপথে বিস্ফোরক পেতে রাখা।
উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক কূটনীতিও সক্রিয় হয়েছে। সৌদি আরব–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে বাড়তে থাকা সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পার্বত্য সীমান্ত ঘিরে উত্তেজনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল সংলাপভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হলে উত্তেজনা আবারও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au