আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন ২৮ ফেব্রুয়ারি- আওয়ামী লীগ সরকারের অবসানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের সময় পুলিশের ব্যবহৃত চায়নিজ ৭ দশমিক ৬২ বোর রাইফেল বেসামরিক ‘বহিরাগতদের’ হাতে চলে গিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময়ই কেবিনেট বৈঠকে আলোচিত হতো না।
“আমরা সেখানে ২৭ জন ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় ধরনের সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটেও আলোচনা হতো না, মোটামুটি কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সব সরকারেই একটি অনানুষ্ঠানিক পরামর্শক গোষ্ঠী থাকে বলে তার এক সহকর্মী মন্তব্য করেছিলেন। তবে কারা সেই পরিসরে সিদ্ধান্ত নিতেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ পরামর্শ করেননি।
তার ভাষায়, “আমি দুঃখিত ও স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না।”
নির্বাচন বিলম্বের কোনো আলোচনা তিনি শুনেছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, প্রকাশ্যে কেউ এ ধরনের কথা বলেননি। বরং ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এলে তিনি সেটিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সে সময় পরিস্থিতি ছিল অস্থির ও নেতৃত্বের ঘাটতি ছিল। বিভিন্ন পক্ষ থেকে সংবিধান বাতিলসহ নানা প্রস্তাব আসছিল এবং জনমনে উত্তেজনা ছিল।
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্দোলনে আহত আনসার সদস্যদের দেখতে গিয়ে ৭ দশমিক ৬২ বোরের চায়নিজ টাইপ ৩৯ রাইফেল নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন এম সাখাওয়াত হোসেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই রাইফেল সাধারণত সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। তার প্রশ্ন ছিল, কীভাবে পুলিশের জন্য বরাদ্দ এমন অস্ত্র বেসামরিক পোশাকধারীদের হাতে গেল।
তিনি দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা, হেলমেটধারী ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল দেখা গেছে। তাদের চেহারা ও গঠন নিয়ে তার সন্দেহ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বাইরে থেকে কেউ এসেছিল কি না— এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তার ভাষায়, “তদন্ত না করে তো বলা যাবে না। আমি তদন্ত করতে চেয়েছিলাম।”
কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আর তদন্তের সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।
৭ দশমিক ৬২ বোর রাইফেল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কেন তাকে সরানো হয়েছিল- এমন প্রশ্নে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হয়তো তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন যা সংশ্লিষ্টদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
তিনি জানান, একপর্যায়ে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
“আমি বলেছিলাম, আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না। আমি থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন। কিন্তু তিনি বললেন, এই সময়ে কোনো কারণেই আমাকে চলে যাওয়া উচিত নয়,” বলেন এম সাখাওয়াত হোসেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, অস্থির পরিস্থিতি থেকে দেশকে তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় আনার কৃতিত্ব সরকারকে দেওয়া উচিত। যদিও কিছু বিষয়ে তার দ্বিমত ছিল, তবে বড় ধরনের গাফিলতি তিনি দেখেননি বলে উল্লেখ করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au